ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎সিএমসি ক্যাফেসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • 69

‎
নিজস্ব প্রতিবেদক
‎
‎চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বিশাল ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
‎
অভিযানে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থিত সুপরিচিত ‘সিএমসি ক্যাফে’ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
‎
‎আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের এই বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ।
‎
হাসপাতালের মতো অতি সংবেদনশীল জায়গায় খাবার ও ওষুধের ক্ষেত্রে এমন চরম অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র আসায় সাধারণ রোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
‎
‎
‎তদন্তকারী দল চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের ভেতরে অবস্থিত সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের দোকান ‘সিএমসি ক্যাফে’-তে প্রবেশ করে রান্নাঘরের ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান । ক্যাফেটির ডিপ ফ্রিজে কোনো ধরনের ঢাকনা ছাড়াই কাঁচা মাছ ও মাংসের ঠিক পাশেই রান্না করা তরকারি একসাথে গাদাগাদি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এ ধরনের পরিবেশ থেকে খাবারে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে, যা হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এই অপরাধে সিএমসি ক্যাফেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ।
‎
‎একই ভবনে অবস্থিত হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনে অভিযান চালিয়েও চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রমাণ পান ভ্রাম্যমাণ আদালত । অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাবার তৈরি ও বাসি খাবার পরিবেশনের দায়ে এই ক্যান্টিনকেও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় ।
‎
‎খাবারের পাশাপাশি হাসপাতালের সামনে থাকা ওষুধের ফার্মেসিগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। হাসপাতাল গেটের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘স্বপ্না মেডিকেল স্টোর’ নামের একটি বড় দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ লাইফ সেভিং ড্রাগ এবং বিদেশি অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখার প্রমাণ মেলে । রোগীদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনির অপরাধে দোকানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে চমেক এলাকায় মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই অভিযানের আওতায় এনে জরিমানা আদায় করা হয়।
‎
‎
‎ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, “মানুষ হাসপাতালে সুস্থ হতে আসেন, নতুন করে অসুস্থ হতে নয়। চমেক হাসপাতালের মতো জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বা খাবারে এমন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর পরিবেশ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এই ধরণের কঠোর তদারকি ও অভিযান হাসপাতাল এলাকাসহ পুরো চট্টগ্রামে নিয়মিত অব্যাহত রাখা হবে।”

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

‎সিএমসি ক্যাফেসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

‎
নিজস্ব প্রতিবেদক
‎
‎চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বিশাল ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
‎
অভিযানে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থিত সুপরিচিত ‘সিএমসি ক্যাফে’ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
‎
‎আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের এই বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ।
‎
হাসপাতালের মতো অতি সংবেদনশীল জায়গায় খাবার ও ওষুধের ক্ষেত্রে এমন চরম অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র আসায় সাধারণ রোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
‎
‎
‎তদন্তকারী দল চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের ভেতরে অবস্থিত সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের দোকান ‘সিএমসি ক্যাফে’-তে প্রবেশ করে রান্নাঘরের ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান । ক্যাফেটির ডিপ ফ্রিজে কোনো ধরনের ঢাকনা ছাড়াই কাঁচা মাছ ও মাংসের ঠিক পাশেই রান্না করা তরকারি একসাথে গাদাগাদি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এ ধরনের পরিবেশ থেকে খাবারে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে, যা হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এই অপরাধে সিএমসি ক্যাফেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ।
‎
‎একই ভবনে অবস্থিত হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনে অভিযান চালিয়েও চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রমাণ পান ভ্রাম্যমাণ আদালত । অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাবার তৈরি ও বাসি খাবার পরিবেশনের দায়ে এই ক্যান্টিনকেও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় ।
‎
‎খাবারের পাশাপাশি হাসপাতালের সামনে থাকা ওষুধের ফার্মেসিগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। হাসপাতাল গেটের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘স্বপ্না মেডিকেল স্টোর’ নামের একটি বড় দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ লাইফ সেভিং ড্রাগ এবং বিদেশি অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখার প্রমাণ মেলে । রোগীদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনির অপরাধে দোকানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে চমেক এলাকায় মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই অভিযানের আওতায় এনে জরিমানা আদায় করা হয়।
‎
‎
‎ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, “মানুষ হাসপাতালে সুস্থ হতে আসেন, নতুন করে অসুস্থ হতে নয়। চমেক হাসপাতালের মতো জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বা খাবারে এমন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর পরিবেশ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এই ধরণের কঠোর তদারকি ও অভিযান হাসপাতাল এলাকাসহ পুরো চট্টগ্রামে নিয়মিত অব্যাহত রাখা হবে।”