ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে সদ্যপ্রসূত স্ত্রী-সন্তান, ওষুধ কেনার মুহূর্তে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 66

নিজস্ব প্রতিবেদক

একপাশে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ফুটফুটে নবজাতক, অন্যপাশে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) হৃদরোগে আক্রান্ত ছটফট করছেন সদ্যপ্রসূত স্ত্রী। স্ত্রী-সন্তানের জীবন-মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের করিডোরে যখন শুধুই এক বাবার বোবা কান্না আর অস্থিরতা, ঠিক তখনই ঘটল এক রুদ্ধশ্বাস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।

 

চিকিৎসাধীন স্ত্রী-সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে নিচে নামতেই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানকে (৩৮)।

 

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের ওআর নিজাম রোডের বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই নাটকীয় ও মানবিক সংকটের ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টক অব দ্য টাউন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া হাসানের সেই অসহায় আকুতি ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের হৃদয়।

 

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাসানের স্ত্রীর কোলজুড়ে আসে এক সন্তান। কিন্তু আনন্দের মুহূর্ত বিষাদে রূপ নিতে সময় লাগেনি। শারীরিক জটিলতায় নবজাতককে দ্রুত এনআইসিইউতে এবং হৃদরোগে আক্রান্ত স্ত্রীকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

 

কেবিনের সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান স্ত্রীর জন্য জরুরি ওষুধ কিনতে নিচে নামলে সাদা পোশাকধারী একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে। ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে গাড়িতে তুলতে চাইলে হাসান কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসান উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের হাত-পা ধরে আকুতি জানিয়ে বলছিলেন, “ভাই, আমাকে নিয়ে যান, আপত্তি নেই। শুধু ৫টা মিনিট সময় দেন। ডাক্তার ওষুধ আনতে বলেছে, ওষুধ না দিলে আমার স্ত্রী মরে যাবে। আমার বাচ্চাটার কী হবে?” কিন্তু সেই মানবিক আকুতি গলেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি নোহা গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

পার্কভিউ হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “সাদা পোশাকের ব্যক্তিরা হাসপাতালের সিকিউরিটিকে ডিবির আইডি কার্ড দেখিয়েছিলেন। এরপর তারা হাসান নামের ওই রোগীকে ধরে নিয়ে যান। ওই মুহূর্তে তার স্ত্রী ও সন্তান অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

ঘটনার পর দিনভর হাসানের খোঁজ না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটায় তার পরিবার। একদিকে ডাক্তারদের তাগিদ, অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য নিখোঁজ—সব মিলিয়ে হাসপাতালে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাতে তাকে হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, “ডিবি পুলিশ সোমবার রাতে হাসানকে আমাদের থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলা রয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হাটহাজারী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৩টি সুনির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

হাসপাতালে সদ্যপ্রসূত স্ত্রী-সন্তান, ওষুধ কেনার মুহূর্তে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

একপাশে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ফুটফুটে নবজাতক, অন্যপাশে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) হৃদরোগে আক্রান্ত ছটফট করছেন সদ্যপ্রসূত স্ত্রী। স্ত্রী-সন্তানের জীবন-মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের করিডোরে যখন শুধুই এক বাবার বোবা কান্না আর অস্থিরতা, ঠিক তখনই ঘটল এক রুদ্ধশ্বাস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।

 

চিকিৎসাধীন স্ত্রী-সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে নিচে নামতেই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানকে (৩৮)।

 

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের ওআর নিজাম রোডের বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই নাটকীয় ও মানবিক সংকটের ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টক অব দ্য টাউন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া হাসানের সেই অসহায় আকুতি ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের হৃদয়।

 

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাসানের স্ত্রীর কোলজুড়ে আসে এক সন্তান। কিন্তু আনন্দের মুহূর্ত বিষাদে রূপ নিতে সময় লাগেনি। শারীরিক জটিলতায় নবজাতককে দ্রুত এনআইসিইউতে এবং হৃদরোগে আক্রান্ত স্ত্রীকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

 

কেবিনের সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান স্ত্রীর জন্য জরুরি ওষুধ কিনতে নিচে নামলে সাদা পোশাকধারী একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে। ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে গাড়িতে তুলতে চাইলে হাসান কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসান উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের হাত-পা ধরে আকুতি জানিয়ে বলছিলেন, “ভাই, আমাকে নিয়ে যান, আপত্তি নেই। শুধু ৫টা মিনিট সময় দেন। ডাক্তার ওষুধ আনতে বলেছে, ওষুধ না দিলে আমার স্ত্রী মরে যাবে। আমার বাচ্চাটার কী হবে?” কিন্তু সেই মানবিক আকুতি গলেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি নোহা গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

পার্কভিউ হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “সাদা পোশাকের ব্যক্তিরা হাসপাতালের সিকিউরিটিকে ডিবির আইডি কার্ড দেখিয়েছিলেন। এরপর তারা হাসান নামের ওই রোগীকে ধরে নিয়ে যান। ওই মুহূর্তে তার স্ত্রী ও সন্তান অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

ঘটনার পর দিনভর হাসানের খোঁজ না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটায় তার পরিবার। একদিকে ডাক্তারদের তাগিদ, অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য নিখোঁজ—সব মিলিয়ে হাসপাতালে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাতে তাকে হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, “ডিবি পুলিশ সোমবার রাতে হাসানকে আমাদের থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলা রয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হাটহাজারী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৩টি সুনির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।