ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ৪ ডাকের আঁধার পেরিয়ে মরুর বুকে লিটনের মহাকাব্য, জয়ের সুবাসে বাংলাদেশ

  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • 33

ক্রীড়া ডেস্ক :

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজের দুঃস্বপ্নটা তখনও তাড়া করে ফিরছিল। টানা তিন ইনিংসে নামের পাশে শূন্য (ডাক) রানের এক হাহাকার! ক্রিকেট অনুরাগী মহলে ফিসফাস—তবে কি হারিয়ে যাচ্ছেন দেশের অন্যতম স্টাইলিশ ব্যাটার? কিন্তু যারা ক্রিকেট রোমান্টিক, তারা জানতেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। আবুধাবির তপ্ত মরুঝড়ে সব সমালোচনা ধূলিসাৎ করে রাজকীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন লিটন কুমার দাস।

 

জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে খেললেন ৫৩ রানের কার্যকর ইনিংস। কিন্তু আসল জাদুকরী রূপটা তুলে রেখেছিলেন দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য। যখন দলের দ্রুত ৩ উইকেট পড়ে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল, তখন উইকেটের চারিপাশে স্বভাবসুলভ অলস আভিজাত্যের (l্স্ট্রো্ক প্লে-তে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট শতক। মাত্র ১১৭ বলে ১৪টি নান্দনিক চারে সাজানো তাঁর ১০২ রানের নিখুঁত এই ইনিংসটি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে ৪৭৮ রানের পাহাড়সম লিড। আর আফগানদের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে বিশ্বরেকর্ড গড়া ৪৭৯ রান!

 

ম্যাচ শেষে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের টেস্ট প্রেমের কথা অকপটে স্বীকার করেন লিটন, “তিনটা ফরম্যাটই আমার ভালো লাগে। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা একটু ওপরে। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ ও উপভোগ করার মতো পরিস্থিতি থাকে। তাই টেস্ট ক্রিকেট আমার পছন্দের।” শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও এই ম্যাচে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন তিনি। ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদের ৭টি ডিসমিসালের রেকর্ড টপকে আবুধাবিতে লিটন নিয়েছেন ৮টি ক্যাচ—যা এক টেস্টে কোনো বাংলাদেশী উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সাথে ক্রিকেট ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরি, ফিফটি এবং ৮টি ডিসমিসাল করার বিরল এক বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন লিটন দাসের।

 

এই প্রত্যাবর্তনের টেস্টেই বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ডানহাতি স্টাইলিশ ওপেনার。 চতুর্থ দিনের শুরুতে লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৪৯ রানের অনবদ্য জুটিতে মিরাজ খেলেন ৫২* রানের অপরাজিত ইনিংস। এর আগে তৃতীয় দিনে নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২ এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ৮১ রানের ওপর ভর করেই বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত পেয়েছিল বাংলাদেশ।

 

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইতিমধ্যেই ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করেছে আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট শিকারী পেসার হাসান মাহমুদ এবং ইবাদত হোসেনের আগুনে বোলিংয়ে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় আফগানরা। তবে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা রহমত শাহ এবারও ৫১ রান করে প্রতিরোধের দেয়াল তুললেও দিনের শেষভাগে তাকে কট বিহাইন্ড করে সাজঘরে ফেরান ইবাদত।

 

পঞ্চম তথা শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭টি উইকেট, আর অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে ম্যাচ জিততে আফগানিস্তানের চাই আরও ৩৪৭ রান। ম্যাচের ভাগ্য এখন স্পিনারদের হাতে। আবুধাবির উইকেট এখনো স্পিনারদের শতভাগ সাহায্য না করলেও লিটন দারুণ আশাবাদী, “আমাদের স্পিনাররা ভালো জায়গায় বল করছে। পঞ্চম দিনে উইকেটের অমসৃণ জায়গা থেকে বল বাঁক নেবে। একটু সহায়তা পেলেই শেষ দিনে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।

 

মহানাটকীয় কিছু না ঘটলে মরুভূমির বুকে লিটনের এই ঐতিহাসিক শতক আর রেকর্ডের ম্যাচটি জয়ে রাঙাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল—এ কথা বলাই বাহুল্য!

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

টানা ৪ ডাকের আঁধার পেরিয়ে মরুর বুকে লিটনের মহাকাব্য, জয়ের সুবাসে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক :

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজের দুঃস্বপ্নটা তখনও তাড়া করে ফিরছিল। টানা তিন ইনিংসে নামের পাশে শূন্য (ডাক) রানের এক হাহাকার! ক্রিকেট অনুরাগী মহলে ফিসফাস—তবে কি হারিয়ে যাচ্ছেন দেশের অন্যতম স্টাইলিশ ব্যাটার? কিন্তু যারা ক্রিকেট রোমান্টিক, তারা জানতেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। আবুধাবির তপ্ত মরুঝড়ে সব সমালোচনা ধূলিসাৎ করে রাজকীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন লিটন কুমার দাস।

 

জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে খেললেন ৫৩ রানের কার্যকর ইনিংস। কিন্তু আসল জাদুকরী রূপটা তুলে রেখেছিলেন দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য। যখন দলের দ্রুত ৩ উইকেট পড়ে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল, তখন উইকেটের চারিপাশে স্বভাবসুলভ অলস আভিজাত্যের (l্স্ট্রো্ক প্লে-তে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট শতক। মাত্র ১১৭ বলে ১৪টি নান্দনিক চারে সাজানো তাঁর ১০২ রানের নিখুঁত এই ইনিংসটি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে ৪৭৮ রানের পাহাড়সম লিড। আর আফগানদের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে বিশ্বরেকর্ড গড়া ৪৭৯ রান!

 

ম্যাচ শেষে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের টেস্ট প্রেমের কথা অকপটে স্বীকার করেন লিটন, “তিনটা ফরম্যাটই আমার ভালো লাগে। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা একটু ওপরে। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ ও উপভোগ করার মতো পরিস্থিতি থাকে। তাই টেস্ট ক্রিকেট আমার পছন্দের।” শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও এই ম্যাচে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন তিনি। ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদের ৭টি ডিসমিসালের রেকর্ড টপকে আবুধাবিতে লিটন নিয়েছেন ৮টি ক্যাচ—যা এক টেস্টে কোনো বাংলাদেশী উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সাথে ক্রিকেট ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরি, ফিফটি এবং ৮টি ডিসমিসাল করার বিরল এক বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন লিটন দাসের।

 

এই প্রত্যাবর্তনের টেস্টেই বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ডানহাতি স্টাইলিশ ওপেনার。 চতুর্থ দিনের শুরুতে লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৪৯ রানের অনবদ্য জুটিতে মিরাজ খেলেন ৫২* রানের অপরাজিত ইনিংস। এর আগে তৃতীয় দিনে নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২ এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ৮১ রানের ওপর ভর করেই বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত পেয়েছিল বাংলাদেশ।

 

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইতিমধ্যেই ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করেছে আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট শিকারী পেসার হাসান মাহমুদ এবং ইবাদত হোসেনের আগুনে বোলিংয়ে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় আফগানরা। তবে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা রহমত শাহ এবারও ৫১ রান করে প্রতিরোধের দেয়াল তুললেও দিনের শেষভাগে তাকে কট বিহাইন্ড করে সাজঘরে ফেরান ইবাদত।

 

পঞ্চম তথা শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭টি উইকেট, আর অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে ম্যাচ জিততে আফগানিস্তানের চাই আরও ৩৪৭ রান। ম্যাচের ভাগ্য এখন স্পিনারদের হাতে। আবুধাবির উইকেট এখনো স্পিনারদের শতভাগ সাহায্য না করলেও লিটন দারুণ আশাবাদী, “আমাদের স্পিনাররা ভালো জায়গায় বল করছে। পঞ্চম দিনে উইকেটের অমসৃণ জায়গা থেকে বল বাঁক নেবে। একটু সহায়তা পেলেই শেষ দিনে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।

 

মহানাটকীয় কিছু না ঘটলে মরুভূমির বুকে লিটনের এই ঐতিহাসিক শতক আর রেকর্ডের ম্যাচটি জয়ে রাঙাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল—এ কথা বলাই বাহুল্য!