ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুয়েনস এইরেসে আফ্রিকান বধ: মেসিহীন আর্জেন্টিনার ‘সাত সতেরো’ উৎসব!

  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • 39

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এইরেস বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখনো নীল-সাদা উৎসবের ঢেউ কমেনি। ফুটবল রোমান্টিকরা যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জাদুকর লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে কিছুটা হলেও ছন্দপতনের শঙ্কা করছিলেন, ঠিক তখনই মাঠের সবুজ ঘাসে ঝড় তুলল স্কালোনির ‘নতুন আর্জেন্টিনা’। গোল বন্যা কাকে বলে, তা হাড়ে হাড়ে টের পেল আফ্রিকান দেশ বুরকিনা ফাসো। প্রীতি ম্যাচের মোড়কে যেন এক নির্মম ফুটবলীয় পাঠ দিল আলবিসেলেস্তেরা। বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মাঠ ছেড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকে বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডাররা হয়তো বুঝতেই পারেননি কী গতিতে বল ঘুরছে তাদের ডি-বক্সের চারপাশে। ম্যাচের ঘড়িতে তখন মাত্র ৪ মিনিট। ডি-বক্সে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বুরকিনা ফাসোর জাল কাঁপান লাউতারো মার্তিনেজ। ১-০!

এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই শুরু হয় আর্জেন্টাইন যুবরাজদের আক্রমণাত্মক প্রদর্শনী। বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন (আত্মঘাতী গোল)। এরপর মনুমেন্টালের গ্যালারি দেখেছে শুধু গোল আর গোল। বিরতিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-০! প্রথমার্ধেই ম্যাচ রূপ নেয় আর্জেন্টিনার একক অনুশীলনে

 

মেসি নেই, নেই ডি মারিয়ার মতো অভিজ্ঞ মহাতারকারা। কিন্তু আর্জেন্টিনার ডাগআউটে বসা লিওনেল স্কালোনি যে ভবিষ্যতের এক অপরাজেয় দল গড়ে তুলছেন, তার প্রমাণ মিলল এই ম্যাচে। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয় অর্ধে মাঠ কাঁপালেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি এবং নিকোলাস পাজ। মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগের এই নতুন সেনানীরা বুরকিনা ফাসোর রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেন।

দলের হয়ে গোল উৎসবে নাম লেখান তরুণ তুর্কি হুলিয়ান আলভারেজ এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো। বুরকিনা ফাসোর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সিমিওনে। আর্জেন্টিনার এই গতিময় ও ওয়ান-টাচ ফুটবলের সামনে পুরো ৯০ মিনিট কেবল বলের পেছনেই ছুটেছে বুরকিনা ফাসোর ফুটবলাররা।

 

ম্যাচ শেষে বুরকিনা ফাসোর কোচ অবশ্য হারের পেছনে মাঠের বাইরের জটিলতাকেও আংশিক দায়ী করেছেন। আর্জেন্টিনা আসার আগে চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়া এবং দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তির কারণে তাদের ফুটবলাররা শতভাগ দিতে পারেননি।

তবে ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, বুরকিনা ফাসোর ক্লান্তি যা-ই থাকুক না কেন, আর্জেন্টিনার এই জয়ের কৃতিত্ব স্কালোনির রণকৌশলেরই প্রাপ্য। দলের সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়ে যেভাবে অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রতিভাদের মূল দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন তিনি, তা এককথায় অনবদ্য।

 

মেসিহীন ম্যাচেও বুয়েনস এইরেসের স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আর্জেন্টিনার প্রতিটি গোলের পর আতশবাজি আর গ্যালারির গর্জন প্রমাণ করেছে, এই দলটির ওপর সমর্থকদের ভরসা কতটা আকাশচুম্বী।

৭ গোলের এই বিশাল জয় কেবল একটি প্রীতি ম্যাচের জয় নয়; এটি আসলে ল্যাটিন পরাশক্তিদের গভীর বেঞ্চ স্ট্রেন্থের এক হুঙ্কার। বিশ্ব ফুটবলকে আর্জেন্টিনা যেন আরও একবার বার্তা দিয়ে রাখল—রাজা মাঠে না থাকলেও, সাম্রাজ্য শাসন করার মতো রাজপুত্রের অভাব নেই এই দেশে!

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বুয়েনস এইরেসে আফ্রিকান বধ: মেসিহীন আর্জেন্টিনার ‘সাত সতেরো’ উৎসব!

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এইরেস বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখনো নীল-সাদা উৎসবের ঢেউ কমেনি। ফুটবল রোমান্টিকরা যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জাদুকর লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে কিছুটা হলেও ছন্দপতনের শঙ্কা করছিলেন, ঠিক তখনই মাঠের সবুজ ঘাসে ঝড় তুলল স্কালোনির ‘নতুন আর্জেন্টিনা’। গোল বন্যা কাকে বলে, তা হাড়ে হাড়ে টের পেল আফ্রিকান দেশ বুরকিনা ফাসো। প্রীতি ম্যাচের মোড়কে যেন এক নির্মম ফুটবলীয় পাঠ দিল আলবিসেলেস্তেরা। বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মাঠ ছেড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকে বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডাররা হয়তো বুঝতেই পারেননি কী গতিতে বল ঘুরছে তাদের ডি-বক্সের চারপাশে। ম্যাচের ঘড়িতে তখন মাত্র ৪ মিনিট। ডি-বক্সে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বুরকিনা ফাসোর জাল কাঁপান লাউতারো মার্তিনেজ। ১-০!

এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই শুরু হয় আর্জেন্টাইন যুবরাজদের আক্রমণাত্মক প্রদর্শনী। বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন (আত্মঘাতী গোল)। এরপর মনুমেন্টালের গ্যালারি দেখেছে শুধু গোল আর গোল। বিরতিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-০! প্রথমার্ধেই ম্যাচ রূপ নেয় আর্জেন্টিনার একক অনুশীলনে

 

মেসি নেই, নেই ডি মারিয়ার মতো অভিজ্ঞ মহাতারকারা। কিন্তু আর্জেন্টিনার ডাগআউটে বসা লিওনেল স্কালোনি যে ভবিষ্যতের এক অপরাজেয় দল গড়ে তুলছেন, তার প্রমাণ মিলল এই ম্যাচে। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয় অর্ধে মাঠ কাঁপালেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি এবং নিকোলাস পাজ। মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগের এই নতুন সেনানীরা বুরকিনা ফাসোর রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেন।

দলের হয়ে গোল উৎসবে নাম লেখান তরুণ তুর্কি হুলিয়ান আলভারেজ এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো। বুরকিনা ফাসোর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সিমিওনে। আর্জেন্টিনার এই গতিময় ও ওয়ান-টাচ ফুটবলের সামনে পুরো ৯০ মিনিট কেবল বলের পেছনেই ছুটেছে বুরকিনা ফাসোর ফুটবলাররা।

 

ম্যাচ শেষে বুরকিনা ফাসোর কোচ অবশ্য হারের পেছনে মাঠের বাইরের জটিলতাকেও আংশিক দায়ী করেছেন। আর্জেন্টিনা আসার আগে চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়া এবং দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তির কারণে তাদের ফুটবলাররা শতভাগ দিতে পারেননি।

তবে ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, বুরকিনা ফাসোর ক্লান্তি যা-ই থাকুক না কেন, আর্জেন্টিনার এই জয়ের কৃতিত্ব স্কালোনির রণকৌশলেরই প্রাপ্য। দলের সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়ে যেভাবে অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রতিভাদের মূল দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন তিনি, তা এককথায় অনবদ্য।

 

মেসিহীন ম্যাচেও বুয়েনস এইরেসের স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আর্জেন্টিনার প্রতিটি গোলের পর আতশবাজি আর গ্যালারির গর্জন প্রমাণ করেছে, এই দলটির ওপর সমর্থকদের ভরসা কতটা আকাশচুম্বী।

৭ গোলের এই বিশাল জয় কেবল একটি প্রীতি ম্যাচের জয় নয়; এটি আসলে ল্যাটিন পরাশক্তিদের গভীর বেঞ্চ স্ট্রেন্থের এক হুঙ্কার। বিশ্ব ফুটবলকে আর্জেন্টিনা যেন আরও একবার বার্তা দিয়ে রাখল—রাজা মাঠে না থাকলেও, সাম্রাজ্য শাসন করার মতো রাজপুত্রের অভাব নেই এই দেশে!