ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজপথের অগ্নিপুরুষ আসিফ চৌধুরী লিমন: চাটগাঁর ছাত্ররাজনীতিতে এক ত্যাগের মহাকাব্য

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 57

বিশেষ প্রতিবেদক :

‎
ছাত্ররাজনীতি—সে তো কোনো বিলাসী ড্রয়িংরুমের রূপকথা নয়। এ এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, যেখানে পুড়ে খাঁটি হতে হয় আদর্শের আগুনে। কেউ কেউ সেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাময়িক পদের লোভে বা ক্ষমতার গ্ল্যামারে, আর কেউ কেউ রাজপথের ধুলোবালি, বুলেটের গর্জন আর অন্ধকার কারাগারকে আপন করে নেন কেবলই গভীর বিশ্বাসের টানে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ছাত্ররাজনীতির আকাশ যখনই মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে, যখনই স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু ও দমন-পীড়নে মুখ থুবড়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের অধিকার, ঠিক তখনই রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন এক লড়াকু ও আপসহীন ছাত্রনেতা। তিনি আসিফ চৌধুরী লিমন।
‎
‎চট্টগ্রামের ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি শুধু একটি নাম নন, বরং গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক জীবন্ত দলিল। অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক মামলার পাহাড়সম বোঝা মাথায় নিয়ে, জীবনের সোনালী সময়কে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে সঁপে দিয়ে যিনি আজো চাটগাঁর রাজপথ কাঁপিয়ে চলেছেন।
‎
‎
‎আসিফ চৌধুরী লিমনের রাজনীতিতে আগমন কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তাকে ছাত্রজীবনেই ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে চাটগাঁর প্রতিটি অলিতে-গলিতে দলের দুঃসময়ে বিশ্বস্ত ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
‎
‎তার এই অদম্য সাহস, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার স্বীকৃতি আসে ২০২০ সালের শেষভাগে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে, যখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত এবং আন্দোলন যখন চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পূর্ণ আস্থা ও অনুমোদনে তিনি কাঁধে তুলে নেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ‘ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক’-এর গুরুদায়িত্ব।
‎
‎
‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সবসময়ই এক ‘হাই-ভোল্টেজ জোন’ এবং আন্দোলনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখানকার ছাত্ররাজনীতির गतिপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে পুরো দেশের আন্দোলনের পারদ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যখন আসিফ চৌধুরী লিমন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পান, তখন সময়টা ছিল তীব্র ক্রান্তিকাল।
‎
‎ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়ন তখন তুঙ্গে। একদিকে রাজপথে টিয়ারশেল ও লাইভ বুলেটের গর্জন, অন্যদিকে গভীর রাতে নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ডিবি-পুলিশের নির্মম তল্লাশি। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি এবং নিজের কাঁধে থাকা অর্ধশতাধিক মামলার তোয়াক্কা না করে, দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনাকে বুকে ধারণ করে তিনি চট্টগ্রামের ছাত্রদলকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন।
‎
‎২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও একদফা আন্দোলন যখন অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়, তখন চট্টগ্রামের রাজপথকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত রাখতে ফ্রন্টলাইনে থেকে নেতৃত্ব দেন আসিফ চৌধুরী লিমন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই নায্য আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলকে রাজপথে নামিয়ে দেন।
‎
‎বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে চাটগাঁর প্রতিটি প্রতিরোধে আসিফ চৌধুরী লিমনের উপস্থিতি ছিল কর্মীদের জন্য বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করার প্রধান অনুপ্রেরণা। স্বৈরাচারের ভাড়াটে ক্যাডার বাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ হামলা, টিয়ারশেল ও নির্বিচার গুলিবর্ষণের তোয়াক্কা না করে তিনি বুক চিতিয়ে সাধারণ ছাত্র-জনতার পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। বহু সহযোদ্ধার রক্তে যখন চট্টগ্রামের মাটি রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যান এই ছাত্রনেতা। ২০২৪-এর সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে চাটগাঁর রাজপথে তার লড়াকু ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
‎
‎
‎একটি বা দুটি নয়, আসিফ চৌধুরী লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক মামলা। বছরের পর বছর তাকে কাটাতে হয়েছে আদালতের বারান্দায়, হাজিরা দিতে দিতে ক্ষয় হয়েছে জুতো, কিন্তু ক্ষয় হয়নি তার ভেতরের আদর্শিক তেজ। বহুবার তাকে গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয়েছে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে। কিন্তু লোহার গরাদ কিংবা রিমান্ডের নির্মম নির্যাতন কোনোটিই এই বীর ছাত্রনেতাকে তার লক্ষ্য থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। কারাগার থেকে যখনই তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন, পরদিনই আবার তাকে দেখা গেছে মিছিলের অগ্রভাগে, স্লোগান মুখে রাজপথ প্রকম্পিত করতে।
‎
‎
‎আসিফ চৌধুরী লিমনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার কর্মীবাবলী। চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীর কাছে লিমন ভাই এক আস্থার প্রতীক। গভীর রাতে কোনো কর্মী অসুস্থ হলে কিংবা রাজপথে আন্দোলনে গিয়ে কেউ আহত বা গ্রেপ্তার হলে, সবার আগে যিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তিনি আসিফ চৌধুরী লিমন। নিজের জীবনের নিরাপত্তা বিলিয়ে দিয়ে কর্মীদের আগলে রাখার এই দুর্লভ गुणই তাকে চাটগাঁর ছাত্ররাজনীতির এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছে।
‎
‎
‎দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে লড়াই আসিফ চৌধুরী লিমন চালিয়ে গিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে তা এক ঐতিহাসিক পূর্ণতা পায়। ফ্যাসিবাদমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা লগ্নে লিমনের মতো ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের অবদান অনস্বীকার্য।
‎
‎আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে আসিফ চৌধুরী লিমন এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতা বা গ্ল্যামারের লোভ সাময়িক হতে পারে, কিন্তু আদর্শ ও বিশ্বাসের জন্য রাজপথে রক্ত ও ঘাম ঝরানোর গৌরব চিরন্তন। চাটগাঁর রাজপথের এই অগ্নিপুরুষ আগামী দিনেও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পতাকা হাতে দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেবেন—এটাই আজ চট্টগ্রামের আপামর ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা।
‎
‎
‎

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রাজপথের অগ্নিপুরুষ আসিফ চৌধুরী লিমন: চাটগাঁর ছাত্ররাজনীতিতে এক ত্যাগের মহাকাব্য

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক :

‎
ছাত্ররাজনীতি—সে তো কোনো বিলাসী ড্রয়িংরুমের রূপকথা নয়। এ এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, যেখানে পুড়ে খাঁটি হতে হয় আদর্শের আগুনে। কেউ কেউ সেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাময়িক পদের লোভে বা ক্ষমতার গ্ল্যামারে, আর কেউ কেউ রাজপথের ধুলোবালি, বুলেটের গর্জন আর অন্ধকার কারাগারকে আপন করে নেন কেবলই গভীর বিশ্বাসের টানে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ছাত্ররাজনীতির আকাশ যখনই মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে, যখনই স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু ও দমন-পীড়নে মুখ থুবড়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের অধিকার, ঠিক তখনই রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন এক লড়াকু ও আপসহীন ছাত্রনেতা। তিনি আসিফ চৌধুরী লিমন।
‎
‎চট্টগ্রামের ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি শুধু একটি নাম নন, বরং গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক জীবন্ত দলিল। অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক মামলার পাহাড়সম বোঝা মাথায় নিয়ে, জীবনের সোনালী সময়কে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে সঁপে দিয়ে যিনি আজো চাটগাঁর রাজপথ কাঁপিয়ে চলেছেন।
‎
‎
‎আসিফ চৌধুরী লিমনের রাজনীতিতে আগমন কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তাকে ছাত্রজীবনেই ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে চাটগাঁর প্রতিটি অলিতে-গলিতে দলের দুঃসময়ে বিশ্বস্ত ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
‎
‎তার এই অদম্য সাহস, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার স্বীকৃতি আসে ২০২০ সালের শেষভাগে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ঠিক দুই বছর পর, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে, যখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত এবং আন্দোলন যখন চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পূর্ণ আস্থা ও অনুমোদনে তিনি কাঁধে তুলে নেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ‘ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক’-এর গুরুদায়িত্ব।
‎
‎
‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সবসময়ই এক ‘হাই-ভোল্টেজ জোন’ এবং আন্দোলনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখানকার ছাত্ররাজনীতির गतिপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে পুরো দেশের আন্দোলনের পারদ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যখন আসিফ চৌধুরী লিমন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পান, তখন সময়টা ছিল তীব্র ক্রান্তিকাল।
‎
‎ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়ন তখন তুঙ্গে। একদিকে রাজপথে টিয়ারশেল ও লাইভ বুলেটের গর্জন, অন্যদিকে গভীর রাতে নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ডিবি-পুলিশের নির্মম তল্লাশি। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি এবং নিজের কাঁধে থাকা অর্ধশতাধিক মামলার তোয়াক্কা না করে, দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনাকে বুকে ধারণ করে তিনি চট্টগ্রামের ছাত্রদলকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন।
‎
‎২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও একদফা আন্দোলন যখন অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়, তখন চট্টগ্রামের রাজপথকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত রাখতে ফ্রন্টলাইনে থেকে নেতৃত্ব দেন আসিফ চৌধুরী লিমন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই নায্য আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলকে রাজপথে নামিয়ে দেন।
‎
‎বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে চাটগাঁর প্রতিটি প্রতিরোধে আসিফ চৌধুরী লিমনের উপস্থিতি ছিল কর্মীদের জন্য বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করার প্রধান অনুপ্রেরণা। স্বৈরাচারের ভাড়াটে ক্যাডার বাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ হামলা, টিয়ারশেল ও নির্বিচার গুলিবর্ষণের তোয়াক্কা না করে তিনি বুক চিতিয়ে সাধারণ ছাত্র-জনতার পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। বহু সহযোদ্ধার রক্তে যখন চট্টগ্রামের মাটি রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যান এই ছাত্রনেতা। ২০২৪-এর সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে চাটগাঁর রাজপথে তার লড়াকু ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
‎
‎
‎একটি বা দুটি নয়, আসিফ চৌধুরী লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক মামলা। বছরের পর বছর তাকে কাটাতে হয়েছে আদালতের বারান্দায়, হাজিরা দিতে দিতে ক্ষয় হয়েছে জুতো, কিন্তু ক্ষয় হয়নি তার ভেতরের আদর্শিক তেজ। বহুবার তাকে গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয়েছে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে। কিন্তু লোহার গরাদ কিংবা রিমান্ডের নির্মম নির্যাতন কোনোটিই এই বীর ছাত্রনেতাকে তার লক্ষ্য থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। কারাগার থেকে যখনই তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন, পরদিনই আবার তাকে দেখা গেছে মিছিলের অগ্রভাগে, স্লোগান মুখে রাজপথ প্রকম্পিত করতে।
‎
‎
‎আসিফ চৌধুরী লিমনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার কর্মীবাবলী। চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীর কাছে লিমন ভাই এক আস্থার প্রতীক। গভীর রাতে কোনো কর্মী অসুস্থ হলে কিংবা রাজপথে আন্দোলনে গিয়ে কেউ আহত বা গ্রেপ্তার হলে, সবার আগে যিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তিনি আসিফ চৌধুরী লিমন। নিজের জীবনের নিরাপত্তা বিলিয়ে দিয়ে কর্মীদের আগলে রাখার এই দুর্লভ गुणই তাকে চাটগাঁর ছাত্ররাজনীতির এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছে।
‎
‎
‎দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে লড়াই আসিফ চৌধুরী লিমন চালিয়ে গিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে তা এক ঐতিহাসিক পূর্ণতা পায়। ফ্যাসিবাদমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা লগ্নে লিমনের মতো ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের অবদান অনস্বীকার্য।
‎
‎আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে আসিফ চৌধুরী লিমন এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতা বা গ্ল্যামারের লোভ সাময়িক হতে পারে, কিন্তু আদর্শ ও বিশ্বাসের জন্য রাজপথে রক্ত ও ঘাম ঝরানোর গৌরব চিরন্তন। চাটগাঁর রাজপথের এই অগ্নিপুরুষ আগামী দিনেও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পতাকা হাতে দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেবেন—এটাই আজ চট্টগ্রামের আপামর ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা।
‎
‎
‎