৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
আদালত প্রতিবেদক
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও, সরকারের শীর্ষ মহলে থেকে বলপ্রয়োগের নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। আন্দোলনকে ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কঠোরভাবে ব্যবহারের পেছনে জাসদ সভাপতির সুগভীর ষড়যন্ত্র ও উসকানি ছিল স্পষ্ট।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রকাশিত ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ে স্বাক্ষরের পর এটি প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, প্রসিকিউশনের আনা আটটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। প্রমাণিত প্রতিটি অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে কার্যত ১০ বছরই কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বাকি পাঁচটি অভিযোগে অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ না মেলায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে ভুক্তভোগীদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন-নির্যাতন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নীতিকে নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন ইনু। ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের সুগভীর ষড়যন্ত্র, উসকানি ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে সাজার পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় ১০ বছরের সাজা অপর্যাপ্ত। হাসানুল হক ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী দাবি করেছেন, ঘটনার সময় ইনু সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। জাসদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ বলে দাবি করা হয়েছে।



















