ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে আশার আলো: তিতাসের নতুন কূপ থেকে গ্রিডে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 5

বিশেষ প্রতিবেদক

 

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মাঝে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে এক পশলা স্বস্তির খবর এলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের সম্পূর্ণ নতুন একটি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ (সাড়ে ১২) মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

 

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) দুপুরে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে পাইপলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাস সরবরাহ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করা হয়।

 

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর আকাশচুম্বী চাপ কমিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর যে মহাপরিকল্পনা, এটি তারই সুনির্দিষ্ট প্রথম সুফল।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে অবস্থিত তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির খননকাজ শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। একটি বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহযোগিতায় মাটির নিচে প্রায় ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় এই খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

মূল উদ্বোধনের আগে গত ১৯ জুন থেকে এই কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পাইপলাইনে গ্যাস দেওয়া শুরু হয়েছিল। সফলভাবে ট্রায়াল রান চলার এই তিন মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা সমমূল্যের দেশীয় গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দিতে ভূমিকা রেখেছে, যা সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয় করেছে। এখন থেকে এই সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিয়মিতভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রবাহিত হবে।

 

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ সচল রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যাচ্ছে। আজ থেকে ২৮ নম্বর কূপের সরবরাহ নিয়মিত যুক্ত হওয়ায় তিতাসের মোট উৎপাদন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো।

বিজিএফসিএলের উন্নয়ন রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে তিতাসের আরও তিনটি (কূপ ২৯, ৩০ ও ৩১) এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপের খনন ও কারিগরি কাজ শেষ হবে। এই ৪টি কূপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে জাতীয় গ্রিডে আরও সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশীয় কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে দেশের ভারী শিল্পকারখানাগুলো গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার যে ঝুঁকিতে ছিল, তা অনেকটাই কেটে যাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে শুধু তিতাস নয়, দেশের অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও নতুন অনুসন্ধান কূপ খননের গতি আরও বাড়াতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইজভাণ্ডারী তরিকায় আত্মনিবেদন ও ইশকের অনন্য উপাখ্যান: খলিফায়ে গাউসুল আজম আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী

জ্বালানি সংকটে আশার আলো: তিতাসের নতুন কূপ থেকে গ্রিডে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক

 

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মাঝে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে এক পশলা স্বস্তির খবর এলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের সম্পূর্ণ নতুন একটি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ (সাড়ে ১২) মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

 

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) দুপুরে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে পাইপলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাস সরবরাহ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করা হয়।

 

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর আকাশচুম্বী চাপ কমিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর যে মহাপরিকল্পনা, এটি তারই সুনির্দিষ্ট প্রথম সুফল।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে অবস্থিত তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির খননকাজ শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। একটি বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহযোগিতায় মাটির নিচে প্রায় ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় এই খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

মূল উদ্বোধনের আগে গত ১৯ জুন থেকে এই কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পাইপলাইনে গ্যাস দেওয়া শুরু হয়েছিল। সফলভাবে ট্রায়াল রান চলার এই তিন মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা সমমূল্যের দেশীয় গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দিতে ভূমিকা রেখেছে, যা সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয় করেছে। এখন থেকে এই সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিয়মিতভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রবাহিত হবে।

 

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ সচল রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যাচ্ছে। আজ থেকে ২৮ নম্বর কূপের সরবরাহ নিয়মিত যুক্ত হওয়ায় তিতাসের মোট উৎপাদন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো।

বিজিএফসিএলের উন্নয়ন রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে তিতাসের আরও তিনটি (কূপ ২৯, ৩০ ও ৩১) এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপের খনন ও কারিগরি কাজ শেষ হবে। এই ৪টি কূপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে জাতীয় গ্রিডে আরও সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশীয় কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে দেশের ভারী শিল্পকারখানাগুলো গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার যে ঝুঁকিতে ছিল, তা অনেকটাই কেটে যাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে শুধু তিতাস নয়, দেশের অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও নতুন অনুসন্ধান কূপ খননের গতি আরও বাড়াতে হবে।