ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধারণক্ষমতার ৪ গুণ বন্দি: চট্টগ্রামে ৭ উপ-কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব

  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 45

রাসেল চৌধুরী

 

চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারের চার দেয়ালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি বন্দি নিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে কারা প্রশাসন। এই তীব্র ধারণক্ষমতার সংকট দূর করতে এবং আদালতের কার্যক্রমে গতি আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ। বিভাগের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় নতুন ‘সাব জেল’ বা উপ-কারাগার নির্মাণের একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করে কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

কারা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রস্তাবনা পাস হলে দেশের বিচারব্যবস্থা ও বন্দি ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু উপজেলায় বর্তমানে চৌকি আদালত সচল রয়েছে। এই আদালতগুলোতে নিয়মিত বন্দিদের হাজির করতে দূরবর্তী জেলা কারাগার থেকে প্রতিদিন শত শত আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার মতো নিরাপত্তা ঝুঁকিও থেকে যায়।

উপজেলা পর্যায়ে সাব-জেল বা উপ-কারাগার নির্মিত হলে চৌকি আদালতের আসামিদের জেলা সদরে না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবেই রাখা সম্ভব হবে। এতে আদালতের সময় বাঁচবে এবং আসামিদের স্বজনদেরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে গিয়ে দেখা করার ভোগান্তি কমবে।

 

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বন্দি ধারণক্ষমতার সূচকে কারাগারগুলোর অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক।যেখানে মাত্র ২ হাজার ২৪৯ জন বন্দি থাকার কথা, সেখানে প্রতিদিন গড়ে গাদাগাদি করে থাকছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ।

 

কুমিল্লায় ১ হাজার ৭৪২ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারেও বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ। রাঙ্গামাটি ১৪৫ জন, বান্দরবান (১১৪ জন), ও খাগড়াছড়ি ৮১ জন কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা কম হলেও সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে। একই চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৭৮০ জন, কক্সবাজারে ৮৩০ জন, চাঁদপুর ৪৭৫ জন, নোয়াখালী ৫০০ জন, লক্ষীপুর ২৯৫ জন এবং ফেনী ৫৬৪ জনজেলা কারাগারগুলোতেও।

 

সব মিলিয়ে বিভাগের ১২টি কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার বন্দি মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে কারারক্ষীরা।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া বলেন, “জেলা কারাগারগুলোর ওপর থেকে বন্দির চাপ কমানো এবং চৌকি আদালতের কার্যক্রমকে আরও নিরাপদ ও গতিশীল করতেই আমরা এই প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। এটি সরকারের নজরে আনার জন্য কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে বন্দি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে।”

 

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু কারাগারের পরিধি বাড়ানোই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। তবে উপজেলা পর্যায়ে সাব-জেল নির্মাণের এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা সাময়িকভাবে বিচার বিভাগ ও কারা প্রশাসনের ওপর থেকে একটি বড় ধকল সামাল দিতে সাহায্য করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর সন্দেহে যুবককে খুঁটিতে বেঁধে, পিঠে ইট চাপিয়ে পিটিয়ে হত্যা

ধারণক্ষমতার ৪ গুণ বন্দি: চট্টগ্রামে ৭ উপ-কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাসেল চৌধুরী

 

চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারের চার দেয়ালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি বন্দি নিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে কারা প্রশাসন। এই তীব্র ধারণক্ষমতার সংকট দূর করতে এবং আদালতের কার্যক্রমে গতি আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ। বিভাগের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় নতুন ‘সাব জেল’ বা উপ-কারাগার নির্মাণের একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করে কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

কারা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রস্তাবনা পাস হলে দেশের বিচারব্যবস্থা ও বন্দি ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু উপজেলায় বর্তমানে চৌকি আদালত সচল রয়েছে। এই আদালতগুলোতে নিয়মিত বন্দিদের হাজির করতে দূরবর্তী জেলা কারাগার থেকে প্রতিদিন শত শত আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার মতো নিরাপত্তা ঝুঁকিও থেকে যায়।

উপজেলা পর্যায়ে সাব-জেল বা উপ-কারাগার নির্মিত হলে চৌকি আদালতের আসামিদের জেলা সদরে না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবেই রাখা সম্ভব হবে। এতে আদালতের সময় বাঁচবে এবং আসামিদের স্বজনদেরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে গিয়ে দেখা করার ভোগান্তি কমবে।

 

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বন্দি ধারণক্ষমতার সূচকে কারাগারগুলোর অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক।যেখানে মাত্র ২ হাজার ২৪৯ জন বন্দি থাকার কথা, সেখানে প্রতিদিন গড়ে গাদাগাদি করে থাকছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ।

 

কুমিল্লায় ১ হাজার ৭৪২ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারেও বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ। রাঙ্গামাটি ১৪৫ জন, বান্দরবান (১১৪ জন), ও খাগড়াছড়ি ৮১ জন কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা কম হলেও সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে। একই চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৭৮০ জন, কক্সবাজারে ৮৩০ জন, চাঁদপুর ৪৭৫ জন, নোয়াখালী ৫০০ জন, লক্ষীপুর ২৯৫ জন এবং ফেনী ৫৬৪ জনজেলা কারাগারগুলোতেও।

 

সব মিলিয়ে বিভাগের ১২টি কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার বন্দি মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে কারারক্ষীরা।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া বলেন, “জেলা কারাগারগুলোর ওপর থেকে বন্দির চাপ কমানো এবং চৌকি আদালতের কার্যক্রমকে আরও নিরাপদ ও গতিশীল করতেই আমরা এই প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। এটি সরকারের নজরে আনার জন্য কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে বন্দি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে।”

 

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু কারাগারের পরিধি বাড়ানোই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। তবে উপজেলা পর্যায়ে সাব-জেল নির্মাণের এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা সাময়িকভাবে বিচার বিভাগ ও কারা প্রশাসনের ওপর থেকে একটি বড় ধকল সামাল দিতে সাহায্য করবে।