ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু সংকট সীমান্ত চেনে না, সমাধান কেন গণ্ডিতে আটকে থাকবে

  • আপডেট সময় : ০৫:০০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 41

থিম্পু সংলাপে সংলাপে সাঈদ আল নোমান

বিশেষ সংবাদদাতা

জলবায়ুর কোনো কাঁটাতার নেই, নেই কোনো ভৌগোলিক মানচিত্র। হিমালয়ের দেশ ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বসে এই রূঢ় সত্যটিই বিশ্বনেতাদের মনে করিয়ে দিলেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। থিম্পুতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের ‘সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ (থিম্পু সংলাপ) সম্মেলনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের এই জনপ্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “জলবায়ু সংকট কোনো সীমান্ত মানে না; তাই আমাদের সমাধানও সীমান্তে আটকে থাকা উচিত নয়।”

বিচ্ছিন্নতা নয়, দরকার অভিন্ন শাসনব্যবস্থা সম্মেলনের মূল সেশনে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের সংকটগুলো তুলে ধরে সাঈদ আল নোমান বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা কোনো একক দেশের পক্ষে এককভাবে সামলানো অসম্ভব। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে এক অভিন্ন ও বহুমাত্রিক অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি। নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে খরা, ভূমিধস ও খাদ্য-জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এর চাক্ষুষ প্রমাণ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো জাতীয় কৌশল খাটবে না। এর পরিবর্তে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী ‘সমন্বিত জলবায়ু শাসনব্যবস্থা’ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

 

সংলাপের সমান্তরালে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। থিম্পুর এই একান্ত বৈঠকে ভুটানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার সাংয়ে খান্ডুও উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলাপে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক ফান্ড গঠনের মতো বাস্তবমুখী বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

 

সাঈদ আল নোমান তাঁর বক্তব্যে কেবল রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব আচরণের ওপর তাগিদ দেন। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আন্তঃসীমান্ত স্তরে আগাম সতর্কবার্তা আদান-প্রদান এবং টেকসই উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়নে তিনি যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফোরাম আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. সঞ্জয় জয়সওয়াল। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন জাহারাত আদিব চৌধুরী। এ ছাড়া ভুটানের জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী লিয়নপো ইয়ুনতেন ফুনশোসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সাঈদ আল নোমানের এই সময়োপযোগী প্রস্তাবনাকে সাধুবাদ জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর সন্দেহে যুবককে খুঁটিতে বেঁধে, পিঠে ইট চাপিয়ে পিটিয়ে হত্যা

জলবায়ু সংকট সীমান্ত চেনে না, সমাধান কেন গণ্ডিতে আটকে থাকবে

আপডেট সময় : ০৫:০০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থিম্পু সংলাপে সংলাপে সাঈদ আল নোমান

বিশেষ সংবাদদাতা

জলবায়ুর কোনো কাঁটাতার নেই, নেই কোনো ভৌগোলিক মানচিত্র। হিমালয়ের দেশ ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বসে এই রূঢ় সত্যটিই বিশ্বনেতাদের মনে করিয়ে দিলেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। থিম্পুতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের ‘সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ (থিম্পু সংলাপ) সম্মেলনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের এই জনপ্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “জলবায়ু সংকট কোনো সীমান্ত মানে না; তাই আমাদের সমাধানও সীমান্তে আটকে থাকা উচিত নয়।”

বিচ্ছিন্নতা নয়, দরকার অভিন্ন শাসনব্যবস্থা সম্মেলনের মূল সেশনে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের সংকটগুলো তুলে ধরে সাঈদ আল নোমান বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা কোনো একক দেশের পক্ষে এককভাবে সামলানো অসম্ভব। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে এক অভিন্ন ও বহুমাত্রিক অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি। নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও মানবিক বিপর্যয় এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে খরা, ভূমিধস ও খাদ্য-জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এর চাক্ষুষ প্রমাণ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো জাতীয় কৌশল খাটবে না। এর পরিবর্তে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী ‘সমন্বিত জলবায়ু শাসনব্যবস্থা’ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

 

সংলাপের সমান্তরালে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। থিম্পুর এই একান্ত বৈঠকে ভুটানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার সাংয়ে খান্ডুও উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলাপে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক ফান্ড গঠনের মতো বাস্তবমুখী বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

 

সাঈদ আল নোমান তাঁর বক্তব্যে কেবল রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব আচরণের ওপর তাগিদ দেন। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আন্তঃসীমান্ত স্তরে আগাম সতর্কবার্তা আদান-প্রদান এবং টেকসই উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়নে তিনি যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফোরাম আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. সঞ্জয় জয়সওয়াল। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন জাহারাত আদিব চৌধুরী। এ ছাড়া ভুটানের জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী লিয়নপো ইয়ুনতেন ফুনশোসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সাঈদ আল নোমানের এই সময়োপযোগী প্রস্তাবনাকে সাধুবাদ জানান।