ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের পিঠে ছুরি: পুরোনো ভূত জাগিয়ে কার আখের গোছানোর চেষ্টা?

  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 11

রাসেল চৌধুরী :

বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বকীয়তা, সার্বভৌমত্ব এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আত্মপরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক অনন্য রাষ্ট্র। বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, গণআন্দোলন এবং সামাজিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে যে, কোনো বাহ্যিক শক্তির ছক বা পুরোনো কোনো ব্যর্থ ভাবাদর্শের অন্ধ অনুকরণ এ দেশের মাটিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু মহলে এমন কিছু কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দৃশ্যমান হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ এবং গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—হঠাৎ করে ইতিহাসের একটি মীমাংসিত অধ্যায়কে নতুন করে আলোড়িত করার এই নোংরা প্রয়াস আসলে কার স্বার্থে?

 

গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কিছু সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও চিন্তাশীল বলয়ে এমন কিছু আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে যা এক দশকের আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের কিছু ব্যর্থ চরিত্র বা বিতর্কিত অধ্যায়কে আকস্মিকভাবে সামনে আনা হচ্ছে, এবং এমন কিছু খোঁড়া যুক্তি হাজির করা হচ্ছে, যা আমাদের জাতীয় চেতনার মূল ভিত্তির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

 

কোনো কোনো বিশ্লেষক একে ‘পুরোনো ভাবাদর্শের সুদূরপ্রসারী মনস্তাত্ত্বিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। কিন্তু গভীরভাবে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এটি আসলে দেশের কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক চক্রান্ত বা এজেন্ডা নয়। বরং সমাজকাঠামোর ভেতরে দীর্ঘকাল ধরে লুকিয়ে থাকা সুনির্দিষ্ট কিছু সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক চালবাজিরই একটি দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ।

 

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ সবসময়ই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। কোনো কোনো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষ চায় না বাংলাদেশ তার নিজস্ব শক্তিতে পূর্ণ স্বাবলম্বী ও এককভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠুক। ফলে, অভ্যন্তরীণ পরিমণ্ডলে এক ধরণের কৃত্রিম আদর্শিক মেরুকরণ তৈরি করতে পারলে কার লাভ—সেই হিসাব-নিকাশ আন্তর্জাতিক রাজনীতির টেবিল থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। ফরাসি দার্শনিক রেমঁ আরোঁ তাঁর বিখ্যাত রাজনৈতিক তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে বিশ্বশক্তির মেরুকরণে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতকে বিভ্রান্ত করে ভূ-রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া হয়।

 

যেকোনো বড় ধরণের ক্ষমতার পালাবদলের পর সমাজ ও রাষ্ট্রে এক ধরণের সাময়িক শূন্যতা তৈরি হয়। সমাজবিজ্ঞানী ইমিল ডুর্খেইমের সামাজিক আদর্শহীনতার তত্ত্ব অনুযায়ী, এ জাতীয় ক্রান্তিকালে পুরোনো প্রথা বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্ব জাহির করতে চায়। তারা ইতিহাসকে বিকৃত করে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চায় যাতে সাধারণ মানুষের মনে নিজেদের অতীত ভুল বা অপরাধের ব্যাপারে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি করা যায়।

 

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সুশাসন এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মতো বড় বড় এজেন্ডাগুলো যখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা, ঠিক তখনই এ ধরণের সংবেদনশীল ও বিতর্কিত ইস্যুগুলোকে সামনে আনা হয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ ও জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে এক নম্বর অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। অথচ কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করে জনমানসের মনোযোগ মূল সংকটগুলো থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একটি সুপরিচিত ‘ডাইভারশন কৌশল’।

 

এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বাংলাদেশের মূলধারার প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো, বিশেষ করে যারা জনগণের ভোটে, বহুদলীয় গণতন্ত্রে এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, তারা কখনোই এই ধরণের প্রতিক্রিয়াশীল ভাবাদর্শকে ধারণ করে না। বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম শুধু একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য ছিল না, তা ছিল নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সার্বভৌম আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।

 

আজকের তরুণ প্রজন্ম বা সাধারণ নাগরিক যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের লক্ষ্য অত্যন্ত আধুনিক ও সুদূরপ্রসারী। তারা একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক এবং স্বনির্ভর রাষ্ট্র চান। তারা অতীতে ফিরে যেতে চান না, কিংবা পৃথিবীর অন্য কোনো ব্যর্থ মডেলে বাংলাদেশকে দেখতে চান না।

 

 

বাংলাদেশ কোনো দেশের হতে পারে না। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর ‘আইডেন্টিটি অ্যান্ড ভায়োলেন্স’ গ্রন্থে লিখেছেন, একক কোনো অনমনীয় পরিচয়ের ছাচে মানুষকে বন্দি করার চেষ্টা সবসময়ই ব্যর্থ হয়। যারা পুরোনো কোনো ভাবাদর্শের কাঁধে ভর করে নিজেদের সংকীর্ণ মনস্তাত্ত্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা আসলে এ দেশের ভেতরের গভীর দেশপ্রেম ও বহুমাত্রিক স্বকীয়তাকে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং সাময়িক কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হলেও এ দেশের সচেতন সমাজ ও সাধারণ মানুষ সবসময়ই সব ধরণের অপশক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌম অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঈদ আল নোমানের নির্দেশে রাজপথে আকাশ, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য রুখতে ছাত্রদলের হুংকার

ইতিহাসের পিঠে ছুরি: পুরোনো ভূত জাগিয়ে কার আখের গোছানোর চেষ্টা?

আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাসেল চৌধুরী :

বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বকীয়তা, সার্বভৌমত্ব এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আত্মপরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক অনন্য রাষ্ট্র। বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, গণআন্দোলন এবং সামাজিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে যে, কোনো বাহ্যিক শক্তির ছক বা পুরোনো কোনো ব্যর্থ ভাবাদর্শের অন্ধ অনুকরণ এ দেশের মাটিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু মহলে এমন কিছু কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দৃশ্যমান হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ এবং গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—হঠাৎ করে ইতিহাসের একটি মীমাংসিত অধ্যায়কে নতুন করে আলোড়িত করার এই নোংরা প্রয়াস আসলে কার স্বার্থে?

 

গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কিছু সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও চিন্তাশীল বলয়ে এমন কিছু আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে যা এক দশকের আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের কিছু ব্যর্থ চরিত্র বা বিতর্কিত অধ্যায়কে আকস্মিকভাবে সামনে আনা হচ্ছে, এবং এমন কিছু খোঁড়া যুক্তি হাজির করা হচ্ছে, যা আমাদের জাতীয় চেতনার মূল ভিত্তির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

 

কোনো কোনো বিশ্লেষক একে ‘পুরোনো ভাবাদর্শের সুদূরপ্রসারী মনস্তাত্ত্বিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। কিন্তু গভীরভাবে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এটি আসলে দেশের কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক চক্রান্ত বা এজেন্ডা নয়। বরং সমাজকাঠামোর ভেতরে দীর্ঘকাল ধরে লুকিয়ে থাকা সুনির্দিষ্ট কিছু সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক চালবাজিরই একটি দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ।

 

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ সবসময়ই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। কোনো কোনো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষ চায় না বাংলাদেশ তার নিজস্ব শক্তিতে পূর্ণ স্বাবলম্বী ও এককভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠুক। ফলে, অভ্যন্তরীণ পরিমণ্ডলে এক ধরণের কৃত্রিম আদর্শিক মেরুকরণ তৈরি করতে পারলে কার লাভ—সেই হিসাব-নিকাশ আন্তর্জাতিক রাজনীতির টেবিল থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। ফরাসি দার্শনিক রেমঁ আরোঁ তাঁর বিখ্যাত রাজনৈতিক তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে বিশ্বশক্তির মেরুকরণে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতকে বিভ্রান্ত করে ভূ-রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া হয়।

 

যেকোনো বড় ধরণের ক্ষমতার পালাবদলের পর সমাজ ও রাষ্ট্রে এক ধরণের সাময়িক শূন্যতা তৈরি হয়। সমাজবিজ্ঞানী ইমিল ডুর্খেইমের সামাজিক আদর্শহীনতার তত্ত্ব অনুযায়ী, এ জাতীয় ক্রান্তিকালে পুরোনো প্রথা বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্ব জাহির করতে চায়। তারা ইতিহাসকে বিকৃত করে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চায় যাতে সাধারণ মানুষের মনে নিজেদের অতীত ভুল বা অপরাধের ব্যাপারে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি করা যায়।

 

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সুশাসন এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মতো বড় বড় এজেন্ডাগুলো যখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা, ঠিক তখনই এ ধরণের সংবেদনশীল ও বিতর্কিত ইস্যুগুলোকে সামনে আনা হয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ ও জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে এক নম্বর অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। অথচ কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করে জনমানসের মনোযোগ মূল সংকটগুলো থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একটি সুপরিচিত ‘ডাইভারশন কৌশল’।

 

এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বাংলাদেশের মূলধারার প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো, বিশেষ করে যারা জনগণের ভোটে, বহুদলীয় গণতন্ত্রে এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, তারা কখনোই এই ধরণের প্রতিক্রিয়াশীল ভাবাদর্শকে ধারণ করে না। বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম শুধু একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য ছিল না, তা ছিল নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সার্বভৌম আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।

 

আজকের তরুণ প্রজন্ম বা সাধারণ নাগরিক যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের লক্ষ্য অত্যন্ত আধুনিক ও সুদূরপ্রসারী। তারা একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক এবং স্বনির্ভর রাষ্ট্র চান। তারা অতীতে ফিরে যেতে চান না, কিংবা পৃথিবীর অন্য কোনো ব্যর্থ মডেলে বাংলাদেশকে দেখতে চান না।

 

 

বাংলাদেশ কোনো দেশের হতে পারে না। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর ‘আইডেন্টিটি অ্যান্ড ভায়োলেন্স’ গ্রন্থে লিখেছেন, একক কোনো অনমনীয় পরিচয়ের ছাচে মানুষকে বন্দি করার চেষ্টা সবসময়ই ব্যর্থ হয়। যারা পুরোনো কোনো ভাবাদর্শের কাঁধে ভর করে নিজেদের সংকীর্ণ মনস্তাত্ত্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা আসলে এ দেশের ভেতরের গভীর দেশপ্রেম ও বহুমাত্রিক স্বকীয়তাকে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং সাময়িক কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হলেও এ দেশের সচেতন সমাজ ও সাধারণ মানুষ সবসময়ই সব ধরণের অপশক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌম অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম।