নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মাঠের পুলিশ কিছুই করতে পারবে না। এই ঘটনার জেরে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে ওসি রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত (লাইন ওআর) করা হয়। আদেশে বিষয়টিকে “প্রশাসনিক কারণ” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভাইরাল হওয়া ওই অডিওর কারণেই তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথোপকথনের অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। মাঠের পুলিশ তো একদম দুর্বল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।
কথোপকথনে দেশের বর্তমান পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও সরকারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি ওসির পদায়নের ক্ষেত্রে কোটি টাকা লেনদেনের গুরুতর অভিযোগও তুলতে শোনা যায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, অডিওর কণ্ঠটি ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য অপসারিত ওসি রাকিবুল হাসানের।
এদিকে অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ওসি রাকিবুল হাসান দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ছড়ানো এই অডিওটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তার কণ্ঠ নকল করে এই অডিওটি তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অডিওটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং আইনি মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী দেশের সার্বভৌমত্ব, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ওসি রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অডিওটির সত্যতা এবং এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত আইনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।























