ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটা-ময়দা ও মুরগিতে স্বস্তি নেই, কাজীর দেউরীতে ক্ষুব্ধ ক্রেতা ও নিরুপায় বিক্রেতারা

  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 12

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য ও প্রোটিনের উৎসগুলোর মূল্যবৃদ্ধি মধ্য ও নিম্নবিত্তের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দেশজুড়ে খোলা ও মোড়কজাত আটা-ময়দার দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চড়া থাকা ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। চট্টগ্রামের অভিজাত কাঁচাবাজার হিসেবে পরিচিতি কাজীর দেউরী বাজারে আজ সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবজি ও সামুদ্রিক মাছের চড়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, আর বিক্রি কমে যাওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

 

খুচরা বাজার ও টিসিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দার দাম ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকা হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বর্তমানে কাজীর দেউরী বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দার দাম ব্র্যান্ডভেদে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।

বাজারের মুদি দোকানদার মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনতে হচ্ছে, তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বেচতে হচ্ছে। দাম বাড়ার পর থেকে কাস্টমাররা আটা-ময়দা কেনা একপ্রকার অর্ধেক করে দিয়েছে। আমাদের লাভ তো দূরের কথা, দৈনিক খরচ তোলাই মুশকিল হয়ে গেছে।”

 

সরকার ও বাজার মনিটরিং টিমের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে মুরগি ও ডিমের বাজার। কাজীর দেউরী বাজারে আজ প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালী মুরগী ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিম এখনো ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আটা-ময়দা থেকে শুরু করে ডিম, মুরগি সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে কোনো পণ্যের দাম একবার বাড়লে তা আর সহজে কমে না। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষ এখন কী খেয়ে বাঁচবে?”

তবে মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “খামারিরা বলছেন মুরগির ফিড বা খাদ্যের অতিরিক্ত দাম এবং সাম্প্রতিক গরম আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম। আমরা যদি নিজেই ১৯০ টাকা কেজিতে মুরগি কিনি, তবে ২০০ টাকার নিচে বিক্রি করব কীভাবে? দাম বেশির কারণে এখন অনেকেই আধা কেজি বা এক কেজি করে মুরগি কিনছেন, পুরো মুরগি নেওয়ার ক্রেতা খুব কম।”

 

কাজীর দেউরী বাজারে সাধারণত পণ্যের গুণগত মান ভালো হলেও দাম অন্যান্য বাজারের তুলনায় কিছুটা বাড়তি থাকে। আজকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোট কম আসায় সামুদ্রিক মাছের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ১,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকা এবং সাগরের পাঙাশ ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

 

সবজির বাজারে নতুন মৌসুমের আলুর দাম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া আগাম শিম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ۲۰۰ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, লাউ ও ধুন্দলের মতো কিছু সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়ায় ক্রেতারা সামান্য স্বস্তি পেলেও সার্বিক বাজার পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অতি দ্রুত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কাজীর দেউরী বাজারের সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতা উভয় পক্ষই।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইজভাণ্ডারী তরিকায় আত্মনিবেদন ও ইশকের অনন্য উপাখ্যান: খলিফায়ে গাউসুল আজম আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী

আটা-ময়দা ও মুরগিতে স্বস্তি নেই, কাজীর দেউরীতে ক্ষুব্ধ ক্রেতা ও নিরুপায় বিক্রেতারা

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য ও প্রোটিনের উৎসগুলোর মূল্যবৃদ্ধি মধ্য ও নিম্নবিত্তের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দেশজুড়ে খোলা ও মোড়কজাত আটা-ময়দার দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চড়া থাকা ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। চট্টগ্রামের অভিজাত কাঁচাবাজার হিসেবে পরিচিতি কাজীর দেউরী বাজারে আজ সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবজি ও সামুদ্রিক মাছের চড়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, আর বিক্রি কমে যাওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

 

খুচরা বাজার ও টিসিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দার দাম ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকা হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বর্তমানে কাজীর দেউরী বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দার দাম ব্র্যান্ডভেদে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।

বাজারের মুদি দোকানদার মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনতে হচ্ছে, তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বেচতে হচ্ছে। দাম বাড়ার পর থেকে কাস্টমাররা আটা-ময়দা কেনা একপ্রকার অর্ধেক করে দিয়েছে। আমাদের লাভ তো দূরের কথা, দৈনিক খরচ তোলাই মুশকিল হয়ে গেছে।”

 

সরকার ও বাজার মনিটরিং টিমের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে মুরগি ও ডিমের বাজার। কাজীর দেউরী বাজারে আজ প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালী মুরগী ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিম এখনো ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আটা-ময়দা থেকে শুরু করে ডিম, মুরগি সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে কোনো পণ্যের দাম একবার বাড়লে তা আর সহজে কমে না। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষ এখন কী খেয়ে বাঁচবে?”

তবে মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “খামারিরা বলছেন মুরগির ফিড বা খাদ্যের অতিরিক্ত দাম এবং সাম্প্রতিক গরম আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম। আমরা যদি নিজেই ১৯০ টাকা কেজিতে মুরগি কিনি, তবে ২০০ টাকার নিচে বিক্রি করব কীভাবে? দাম বেশির কারণে এখন অনেকেই আধা কেজি বা এক কেজি করে মুরগি কিনছেন, পুরো মুরগি নেওয়ার ক্রেতা খুব কম।”

 

কাজীর দেউরী বাজারে সাধারণত পণ্যের গুণগত মান ভালো হলেও দাম অন্যান্য বাজারের তুলনায় কিছুটা বাড়তি থাকে। আজকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোট কম আসায় সামুদ্রিক মাছের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ১,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকা এবং সাগরের পাঙাশ ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

 

সবজির বাজারে নতুন মৌসুমের আলুর দাম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া আগাম শিম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ۲۰۰ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, লাউ ও ধুন্দলের মতো কিছু সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়ায় ক্রেতারা সামান্য স্বস্তি পেলেও সার্বিক বাজার পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অতি দ্রুত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কাজীর দেউরী বাজারের সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতা উভয় পক্ষই।