ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের বিনির্মাণ নাকি ‘প্যারালাল বয়ান’? ডাকসুর দেয়ালে জিন্নাহ-বিতর্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 10

রাসেল চৌধুরী

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের করিডোর কিংবা মধুর ক্যান্টিনের আড্ডায় যে রাজনৈতিক হাওয়া বয়, তা প্রায়শই রূপ নেয় জাতীয় রাজনীতির ঝড়ে। কিন্তু সম্প্রতি নব-সংস্কারকৃত ডাকসু সংগ্রহশালা উন্মোচনের পর সেখানে যা ঘটল, তা কেবল একটি ছবির ফ্রেম ভাঙার গল্প নয়। এটি আসলে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের মূল ভিত্তি ও বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইকে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

সেপ্টেম্বরের এই তপ্ত দুপুরে ডাকসুর দেয়ালে স্থান পাওয়া পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ঘিরে যে নজিরবিহীন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা দেশের  গভীর রাজনৈতিক ব্যবচ্ছেদ।

 

দীর্ঘদিন পর যখন ডাকসুর ঐতিহাসিক সংগ্রহশালাটি নতুন রূপ নিয়ে উন্মোচিত হলো, তখন দর্শনার্থীরা অবাক হয়ে দেখলেন সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ছবিটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের সেই কুখ্যাত ভাষণের, যেখানে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন—‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’।

ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই ছবিগুলো রাখার উদ্দেশ্য জিন্নাহকে নায়ক বানানে নয়; বরং ইতিহাসকে তার নিজস্ব নির্মমতায় উপস্থাপন করা। ছবির নিচে জিন্নাহর বাংলা ভাষা-বিরোধী বক্তব্যও স্পষ্ট ক্যাপশনে লেখা ছিল।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ছবিগুলো না রাখা হতো, তবে সমালোচকরা অভিযোগ তুলতেন যে প্রশাসন জিন্নাহর ঐতিহাসিক অপরাধকে আড়াল করে তাকে একপ্রকার ‘দায়মুক্তি’ দিয়েছে!

কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪৮ সালে কার্জন হলে জিন্নাহর মুখের ওপর ‘নো’ বলে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ বুনেছিল, সেখানে স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবিকে কেন এমন ফোকাস বা প্রধান আকর্ষণে আনা হলো?

 

এই তাত্ত্বিক যুক্তির প্রাচীর ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। গত সোমবার দুপুরে উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার সরাসরি সংগ্রহশালায় ঢুকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং জিন্নাহর ছবিগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। তার ক্ষুব্ধ বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—“আমরা জিন্নাহর আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি, কোনো স্বৈরাচারের পতন জিন্নাহকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসন করার জন্য হয়নি।”

এই ঘটনার পর ক্যাম্পাস জুড়ে শুরু হয় আরেক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার প্রতিবাদে এবং ডাকসুর এই ‘পাকিস্তান প্রীতি’র কাউন্টার হিসেবে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযমকে অতীতে জুতাপেটা করার একটি ঐতিহাসিক ছবি এনে গ্যালারির দেয়ালে টাঙিয়ে দেন! ছাত্রদল জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো অভিযোগ তোলে, ‘শিবির-নিয়ন্ত্রিত’ ডাকসু মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সুকৌশলে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ন্যারেটিভ তৈরি করছে।

 

ঘটনা কেবল জিন্নাহর ছবিতে সীমাবদ্ধ থাকলে হয়তো একে কেবলই ‘ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি’ বলে পাশ কাটানো যেত। কিন্তু এর সমান্তরালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি উদ্যোগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া কলাভবনের পাশে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে ‘শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট’ চালু করার চেষ্টাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সমান্তরাল প্রশাসনিক কাঠামো’ বা ‘দ্বৈত প্রশাসন’ তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রোভিসির (প্রশাসন) নেতৃত্বে তিনটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। প্রশাসনের সাফ কথা—বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

 

ইতিহাস চর্চার দুটি ধারা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, ইতিহাসের খলনায়কদের দলিল হিসেবে রাখা উচিত, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের অপরাধের মাত্রা চিহ্নিত করতে পারে। অন্য পক্ষ মনে করে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের গ্যালারিতে যখন স্বাধীনতার স্থপতিদের ছবিকে অবমূল্যায়ন করে ঔপনিবেশিক শোষকদের ফ্রেমবন্দি করা হয়, তখন তা আর ‘ইতিহাস চর্চা’ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে এক সুগভীর আদর্শিক এজেন্ডা।

৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ যখন এক বিশাল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ইতিহাসের এই নতুন মেরুকরণ আমাদের কোন ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—সেই প্রশ্ন এখন শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনে এক মস্ত বড় বিজ্ঞাপন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর সন্দেহে যুবককে খুঁটিতে বেঁধে, পিঠে ইট চাপিয়ে পিটিয়ে হত্যা

ইতিহাসের বিনির্মাণ নাকি ‘প্যারালাল বয়ান’? ডাকসুর দেয়ালে জিন্নাহ-বিতর্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাসেল চৌধুরী

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের করিডোর কিংবা মধুর ক্যান্টিনের আড্ডায় যে রাজনৈতিক হাওয়া বয়, তা প্রায়শই রূপ নেয় জাতীয় রাজনীতির ঝড়ে। কিন্তু সম্প্রতি নব-সংস্কারকৃত ডাকসু সংগ্রহশালা উন্মোচনের পর সেখানে যা ঘটল, তা কেবল একটি ছবির ফ্রেম ভাঙার গল্প নয়। এটি আসলে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের মূল ভিত্তি ও বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইকে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

সেপ্টেম্বরের এই তপ্ত দুপুরে ডাকসুর দেয়ালে স্থান পাওয়া পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ঘিরে যে নজিরবিহীন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা দেশের  গভীর রাজনৈতিক ব্যবচ্ছেদ।

 

দীর্ঘদিন পর যখন ডাকসুর ঐতিহাসিক সংগ্রহশালাটি নতুন রূপ নিয়ে উন্মোচিত হলো, তখন দর্শনার্থীরা অবাক হয়ে দেখলেন সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ছবিটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের সেই কুখ্যাত ভাষণের, যেখানে জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন—‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’।

ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই ছবিগুলো রাখার উদ্দেশ্য জিন্নাহকে নায়ক বানানে নয়; বরং ইতিহাসকে তার নিজস্ব নির্মমতায় উপস্থাপন করা। ছবির নিচে জিন্নাহর বাংলা ভাষা-বিরোধী বক্তব্যও স্পষ্ট ক্যাপশনে লেখা ছিল।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ছবিগুলো না রাখা হতো, তবে সমালোচকরা অভিযোগ তুলতেন যে প্রশাসন জিন্নাহর ঐতিহাসিক অপরাধকে আড়াল করে তাকে একপ্রকার ‘দায়মুক্তি’ দিয়েছে!

কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪৮ সালে কার্জন হলে জিন্নাহর মুখের ওপর ‘নো’ বলে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ বুনেছিল, সেখানে স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবিকে কেন এমন ফোকাস বা প্রধান আকর্ষণে আনা হলো?

 

এই তাত্ত্বিক যুক্তির প্রাচীর ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। গত সোমবার দুপুরে উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার সরাসরি সংগ্রহশালায় ঢুকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং জিন্নাহর ছবিগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। তার ক্ষুব্ধ বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—“আমরা জিন্নাহর আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি, কোনো স্বৈরাচারের পতন জিন্নাহকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসন করার জন্য হয়নি।”

এই ঘটনার পর ক্যাম্পাস জুড়ে শুরু হয় আরেক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার প্রতিবাদে এবং ডাকসুর এই ‘পাকিস্তান প্রীতি’র কাউন্টার হিসেবে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযমকে অতীতে জুতাপেটা করার একটি ঐতিহাসিক ছবি এনে গ্যালারির দেয়ালে টাঙিয়ে দেন! ছাত্রদল জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো অভিযোগ তোলে, ‘শিবির-নিয়ন্ত্রিত’ ডাকসু মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সুকৌশলে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ন্যারেটিভ তৈরি করছে।

 

ঘটনা কেবল জিন্নাহর ছবিতে সীমাবদ্ধ থাকলে হয়তো একে কেবলই ‘ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি’ বলে পাশ কাটানো যেত। কিন্তু এর সমান্তরালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি উদ্যোগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া কলাভবনের পাশে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে ‘শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট’ চালু করার চেষ্টাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সমান্তরাল প্রশাসনিক কাঠামো’ বা ‘দ্বৈত প্রশাসন’ তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রোভিসির (প্রশাসন) নেতৃত্বে তিনটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। প্রশাসনের সাফ কথা—বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

 

ইতিহাস চর্চার দুটি ধারা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, ইতিহাসের খলনায়কদের দলিল হিসেবে রাখা উচিত, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের অপরাধের মাত্রা চিহ্নিত করতে পারে। অন্য পক্ষ মনে করে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের গ্যালারিতে যখন স্বাধীনতার স্থপতিদের ছবিকে অবমূল্যায়ন করে ঔপনিবেশিক শোষকদের ফ্রেমবন্দি করা হয়, তখন তা আর ‘ইতিহাস চর্চা’ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে এক সুগভীর আদর্শিক এজেন্ডা।

৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ যখন এক বিশাল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ইতিহাসের এই নতুন মেরুকরণ আমাদের কোন ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—সেই প্রশ্ন এখন শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনে এক মস্ত বড় বিজ্ঞাপন।