নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আসামি আত্মসমর্পণ না করায় আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া সচল রাখতে তাদের পক্ষে ডিফেন্স কাউন্সিল (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা ছাড়াও এই ৩০ পলাতক আসামির তালিকায় রয়েছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ তৎকালীন সরকারের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা।
এদিকে, একই মামলায় আজ সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সকালে ট্রাইব্যুনালে তার পক্ষে জামিনের শুনানি হলে আদালত তা নাকচ করে দেন।
আজকের শুনানির জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডা. দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও ফারজানা রূপাসহ কারাগারে থাকা মোট ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আসামিদের উপস্থিতিতেই প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীদের আইনি যুক্তিতর্ক শোনেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালীন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো ওই অভিযানকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই অভিযানের নির্দেশ ও সমন্বয় করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং বাকি ৩০ জন পলাতক।























