ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর প্রকল্পে মহাবিপর্যয় ৪৩ ঘণ্টা পরও বিদ্যুৎ-ইন্টারনেটহীন অন্ধকারে বায়েক ভবন

  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 29

 স্থবিরতা কাটার অপেক্ষায়

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশের সবচেয়ে মেগা অবকাঠামো পাবনার ঈশ্বরদীর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় ‘পাওনিয়ার বেজে’ লাগা ভয়াবহ আগুনের ৪৩ ঘণ্টা পার হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতের ওই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা এখনও পুরোপুরি বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত। ফলে থমকে গেছে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ, আর তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রকল্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রকল্প সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত শেষ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজ ভবনের সার্ভার রুমে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগুনে বায়েক অফিসের মূল সার্ভার রুমসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি কক্ষের কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্কিং ডিভাইস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

 

এই ঘটনার পর থেকে পাওনিয়ার বেজ, কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনসহ মোট তিনটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সাথে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের কার্যালয়গুলো ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সার্ভার রুম পুড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বা নথির স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, গভীর রাতে খবর পেয়ে ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুন লেগে থাকতে পারে। রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে আগুনে কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র ও সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

বায়েকের এক প্রযুক্তি কর্মকর্তা জানান, টানা বিদ্যুৎহীনতার কারণে সার্ভার সচল ও ডেটা রিকভারি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও চরম গরমে ও বিদ্যুৎ-পানিশূন্যতায় শ্রমিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

 

প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিকল্প উপায়ে সংযোগ চালুর কাজ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা ফিরলে পুলিশ অকার্যকর’: অডিও কেলেঙ্কারিতে ক্যান্টনমেন্টের ওসি প্রত্যাহার, হাতকড়া পরানোর দাবি

রূপপুর প্রকল্পে মহাবিপর্যয় ৪৩ ঘণ্টা পরও বিদ্যুৎ-ইন্টারনেটহীন অন্ধকারে বায়েক ভবন

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 স্থবিরতা কাটার অপেক্ষায়

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশের সবচেয়ে মেগা অবকাঠামো পাবনার ঈশ্বরদীর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় ‘পাওনিয়ার বেজে’ লাগা ভয়াবহ আগুনের ৪৩ ঘণ্টা পার হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতের ওই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা এখনও পুরোপুরি বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত। ফলে থমকে গেছে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ, আর তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রকল্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রকল্প সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত শেষ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজ ভবনের সার্ভার রুমে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগুনে বায়েক অফিসের মূল সার্ভার রুমসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি কক্ষের কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্কিং ডিভাইস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

 

এই ঘটনার পর থেকে পাওনিয়ার বেজ, কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনসহ মোট তিনটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সাথে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের কার্যালয়গুলো ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সার্ভার রুম পুড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বা নথির স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, গভীর রাতে খবর পেয়ে ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুন লেগে থাকতে পারে। রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে আগুনে কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র ও সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

বায়েকের এক প্রযুক্তি কর্মকর্তা জানান, টানা বিদ্যুৎহীনতার কারণে সার্ভার সচল ও ডেটা রিকভারি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও চরম গরমে ও বিদ্যুৎ-পানিশূন্যতায় শ্রমিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

 

প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিকল্প উপায়ে সংযোগ চালুর কাজ চলছে।