বিশেষ প্রতিবেদক
রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় তিনি দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্র সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার জোর আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে তা সম্ভব। আমাদের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।” তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তাই তাদের কাছে আমার আহ্বান—আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি।
১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযান চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই দেশজুড়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ডেঙ্গু দূরীকরণে শতভাগ সফল হতে না পারলেও অন্তত ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধানের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা হয়তো শতভাগ পারব না, কিন্তু সবাই মিলে চেষ্টা করলে অন্তত ৮০ শতাংশ ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সহজ একটি সমাধানের পথ বাতলে দেন। তিনি প্রতিটি নাগরিককে সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় বের করে নিজের চারপাশ পরিষ্কার করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, কাজটি খুব বেশি কঠিন নয়। যদি আমরা প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১ ঘণ্টা সময় দিই নিজের বাড়ি, স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মক্ষেত্র পরিষ্কার রাখার জন্য, তবে আমরা খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারব। অসচেতনভাবে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।
এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের ৬৪টি জেলার জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একযোগে মাঠে নেমেছে। মাঠপর্যায়ে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইডের মতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রায় ২৫ হাজার সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং এই অভিযান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত তরুণদের সাথে নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেন এবং নিজে প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দেশব্যাপী এই অভিযানের সূচনা করেন।























