ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৩, বিপুল মাদক উদ্ধার

  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 4

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪৫ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা • পরোয়ানাভুক্ত ১৪৪ জন আইনের আওতায়

ইকাবাল উদ্দিন ভুঁইয়া

চট্টগ্রাম অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এক সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানে মোট ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ১৪৪ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রেঞ্জ পুলিশ জানায়, জেলাগুলোতে অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করে শনিবার ভোর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ছাড়াও একটি বড় অংশ মাদক কারবারে জড়িত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট মাদকবিরোধী অভিযানেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০৮ জনকে। এর মধ্যে হাতেনাতে ধরা পড়া ৩ জন পেশাদার মাদক বহনকারী, ৭৬ জন মাদকসেবী এবং ২৯ জন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন করে আরও ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

অভিযান চলাকালে রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার স্পটগুলো থেকে ১ হাজার ৪৫৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ কেজি ৭৪৫ গ্রাম গাঁজা, ৬০ লিটার দেশীয় চোলাইমদ, ৩৬ বোতল বিদেশি মদ, ৪৬ বোতল হুইস্কি এবং ২০ বোতল নিষিদ্ধ স্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়।

 

এদিকে অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে অভিযানের সঙ্গে সক্রিয় ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিভিন্ন অপরাধে হাতেনাতে আটক ৪৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে থাকা আসামিদের ধরতেও বড় সাফল্য এসেছে। ২৪ ঘণ্টায় আদালতের পরোয়ানামূলে (ডব্লিউএ) ১১৯ জন এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আরও ২৫ জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নিয়মিত ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন মামলায় ২১৮ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অন্যান্য ধারায় বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, “অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে পুলিশের এই বিশেষ ও সমন্বিত অভিযান সামনে আরও জোরদার করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাম ভবন থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৩, বিপুল মাদক উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪৫ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা • পরোয়ানাভুক্ত ১৪৪ জন আইনের আওতায়

ইকাবাল উদ্দিন ভুঁইয়া

চট্টগ্রাম অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এক সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানে মোট ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ১৪৪ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রেঞ্জ পুলিশ জানায়, জেলাগুলোতে অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করে শনিবার ভোর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ছাড়াও একটি বড় অংশ মাদক কারবারে জড়িত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট মাদকবিরোধী অভিযানেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০৮ জনকে। এর মধ্যে হাতেনাতে ধরা পড়া ৩ জন পেশাদার মাদক বহনকারী, ৭৬ জন মাদকসেবী এবং ২৯ জন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন করে আরও ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

অভিযান চলাকালে রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার স্পটগুলো থেকে ১ হাজার ৪৫৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ কেজি ৭৪৫ গ্রাম গাঁজা, ৬০ লিটার দেশীয় চোলাইমদ, ৩৬ বোতল বিদেশি মদ, ৪৬ বোতল হুইস্কি এবং ২০ বোতল নিষিদ্ধ স্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়।

 

এদিকে অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে অভিযানের সঙ্গে সক্রিয় ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিভিন্ন অপরাধে হাতেনাতে আটক ৪৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে থাকা আসামিদের ধরতেও বড় সাফল্য এসেছে। ২৪ ঘণ্টায় আদালতের পরোয়ানামূলে (ডব্লিউএ) ১১৯ জন এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আরও ২৫ জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নিয়মিত ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন মামলায় ২১৮ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অন্যান্য ধারায় বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, “অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে পুলিশের এই বিশেষ ও সমন্বিত অভিযান সামনে আরও জোরদার করা হবে।