ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোটরসাইকেল চুরির জেরে যুবদল নেতা করিম খুন

  • আপডেট সময় : ১০:০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 8

 অস্ত্রসহ ৪ খুনি গ্রেপ্তার, জোরারগঞ্জে চোর চক্রের আরও ৬ সদস্য খাঁচায়

ইকবাল উদ্দিন ভুঁইয়া

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মূলত একটি চোরাই মোটরসাইকেলের ভাগবাটোয়ারা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল। জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চার খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাটিচাপা দিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো চাপাতি।

 

এদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অপর এক সফল অভিযানে একটি আন্তঃজেলা চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

 

ডিবি পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, একটি চোরাই মোটরসাইকেলের মালিকানা ও তা নিয়ে বিরোধের জেরে করিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে আসামিরা।

এরপরই পুলিশি অ্যাকশনে গ্রেপ্তার করা হয় চার আসামিকে। এরা হলেন— সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর, মো. জাবেদ, মো. সেলিম ও মো. আলামিন। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাউজানের পশ্চিম গুজরা এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি দেশীয় এলজি, ১টি এয়ার গান, ২ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি রক্তমাখা চাপাতি এবং গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা ঠুকে দিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতা মো. পারভেজ এখনো পলাতক থাকায় তাকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।

 

একই সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের বড় একটি নেটওয়ার্ক ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই সিন্ডিকেটের ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা ৩টি দামি মোটরসাইকেল এবং অপরাধের কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন। পুলিশ জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর সন্দেহে যুবককে খুঁটিতে বেঁধে, পিঠে ইট চাপিয়ে পিটিয়ে হত্যা

মোটরসাইকেল চুরির জেরে যুবদল নেতা করিম খুন

আপডেট সময় : ১০:০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 অস্ত্রসহ ৪ খুনি গ্রেপ্তার, জোরারগঞ্জে চোর চক্রের আরও ৬ সদস্য খাঁচায়

ইকবাল উদ্দিন ভুঁইয়া

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মূলত একটি চোরাই মোটরসাইকেলের ভাগবাটোয়ারা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল। জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চার খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাটিচাপা দিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো চাপাতি।

 

এদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অপর এক সফল অভিযানে একটি আন্তঃজেলা চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

 

ডিবি পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, একটি চোরাই মোটরসাইকেলের মালিকানা ও তা নিয়ে বিরোধের জেরে করিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে আসামিরা।

এরপরই পুলিশি অ্যাকশনে গ্রেপ্তার করা হয় চার আসামিকে। এরা হলেন— সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর, মো. জাবেদ, মো. সেলিম ও মো. আলামিন। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাউজানের পশ্চিম গুজরা এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি দেশীয় এলজি, ১টি এয়ার গান, ২ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি রক্তমাখা চাপাতি এবং গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা ঠুকে দিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতা মো. পারভেজ এখনো পলাতক থাকায় তাকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।

 

একই সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের বড় একটি নেটওয়ার্ক ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই সিন্ডিকেটের ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা ৩টি দামি মোটরসাইকেল এবং অপরাধের কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন। পুলিশ জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।