ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপালে দেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প: চলতি সপ্তাহেই একনেকে অনুমোদন

  • আপডেট সময় : ০৮:১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 16

অর্থনীতি প্রতিবেদক

 

আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ]। বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটির প্রস্তাব চলতি সপ্তাহেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) । এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

 

পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সবুজ সংকেত দিয়েছে এবং প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে । একনেকের অনুমোদন মিললে ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এই মেগা প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে ।

 

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রিড-সংযুক্ত কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে । এটি ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত সৌরকেন্দ্রের (৮.৮৭ টাকা) তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ সাশ্রয়ী । ইনফাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফেসিলিটেশন কোম্পানির করা ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী, আগের অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ থাকায় উৎপাদন খরচ এতটা কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

 

ব্যয় ও ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মূলত পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ও বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগানো হবে । রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আগে অধিগৃহীত জমির মধ্য থেকে অব্যবহৃত ৯১৮.৫ একর জমিতে এই ফটোভোলটাইক (পিভি) সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হবে। যেহেতু সাইট উন্নয়ন, ভূমি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ আগে থেকেই করা আছে, তাই সম্পূর্ণ নতুন কোনো স্থানে (গ্রিনফিল্ড প্রকল্প) প্রকল্প করার তুলনায় এর নির্মাণ ব্যয় ও সময় দুই-ই অনেক কম লাগবে ।

 

গ্রিড সংযুক্তি উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ২৩০ কেভি ট্রান্সমিশন সিস্টেম তৈরি করা হবে। এটি সরাসরি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের সাবস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে ।

 

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, “কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করাটা বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিতে এক ইতিবাচক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এটি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ।

 

পরিবেশবিদরা আশা করছেন, কয়লার বদলে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকে পড়ার এই সিদ্ধান্ত পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সুন্দরবনের ওপর বাড়তি পরিবেশগত চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

 

এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গতি আনবে। একই সঙ্গে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের অঙ্গীকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর সন্দেহে যুবককে খুঁটিতে বেঁধে, পিঠে ইট চাপিয়ে পিটিয়ে হত্যা

রামপালে দেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প: চলতি সপ্তাহেই একনেকে অনুমোদন

আপডেট সময় : ০৮:১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি প্রতিবেদক

 

আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ]। বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটির প্রস্তাব চলতি সপ্তাহেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) । এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

 

পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সবুজ সংকেত দিয়েছে এবং প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে । একনেকের অনুমোদন মিললে ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এই মেগা প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে ।

 

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রিড-সংযুক্ত কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে । এটি ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত সৌরকেন্দ্রের (৮.৮৭ টাকা) তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ সাশ্রয়ী । ইনফাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফেসিলিটেশন কোম্পানির করা ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী, আগের অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ থাকায় উৎপাদন খরচ এতটা কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

 

ব্যয় ও ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা মূলত পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ও বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগানো হবে । রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আগে অধিগৃহীত জমির মধ্য থেকে অব্যবহৃত ৯১৮.৫ একর জমিতে এই ফটোভোলটাইক (পিভি) সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হবে। যেহেতু সাইট উন্নয়ন, ভূমি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ আগে থেকেই করা আছে, তাই সম্পূর্ণ নতুন কোনো স্থানে (গ্রিনফিল্ড প্রকল্প) প্রকল্প করার তুলনায় এর নির্মাণ ব্যয় ও সময় দুই-ই অনেক কম লাগবে ।

 

গ্রিড সংযুক্তি উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ২৩০ কেভি ট্রান্সমিশন সিস্টেম তৈরি করা হবে। এটি সরাসরি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের সাবস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে ।

 

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, “কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করাটা বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিতে এক ইতিবাচক অগ্রাধিকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এটি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ।

 

পরিবেশবিদরা আশা করছেন, কয়লার বদলে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকে পড়ার এই সিদ্ধান্ত পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সুন্দরবনের ওপর বাড়তি পরিবেশগত চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

 

এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গতি আনবে। একই সঙ্গে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের অঙ্গীকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।