ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি: ৮ দফা যেকোনো সময় ১ দফায় রূপ নিতে পারে

  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 4

বিশেষ প্রতিবেদক

 

জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন, উত্তরবঙ্গের জীবনরেখা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ চালু এবং দেশব্যাপী চাদাবাজি-দখলবাজি বন্ধসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে বিশাল লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

 

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক বিশাল গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী এই দীর্ঘ সফরের সূচনা হয়।

 

উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজকে আমাদের দাবি আটটি। পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি ৯ বা ১০ দফাও হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, শাসকেরা যদি জনগণের ভাষা না বোঝেন, তবে জাতির প্রয়োজনে এই আট দফা যেকোনো মুহূর্তে এক দফায় রূপ নিতে পারে। তিনি বর্তমান প্রশাসনকে নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে চোখ রাঙিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে দমানো যাবে না।

 

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় কয়েক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। জোটের পূর্বঘোষিত রুট অনুযায়ী, বহরটি টঙ্গী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যাত্রাপথে প্রতিটি মোড়ে এবং বাইপাসগুলোতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এবং টাঙ্গাইলের মহাসড়কে দুটি বড় ধরনের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা কার্যত জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

 

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যজোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জোটের নীতিনির্ধারকেরা জানান, চট্টগ্রামের কর্মসূচিতে জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো ৬টি মৌলিক দাবি ছিল। তবে এবারের রংপুর লংমার্চে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতীক ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন’ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে চলমান ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের’ দাবি দুটি নতুন করে যুক্ত হয়ে তা ৮ দফায় রূপ নিয়েছে।

 

চট্টগ্রামের লংমার্চের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রামের অভূতপূর্ব সফলতার পর অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে আমরা সেই মাথা গরমের কিছু আলামত ও লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আমরা বলব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। ক্ষমতার দম্ভ ছেড়ে জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।”

 

উদ্বোধনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার পর দেশের শাসনব্যবস্থায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এই আন্দোলন সফল করা ছাড়া বিকল্প নেই।

 

জোটের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, দেশের চার প্রান্তকে জাগ্রত করার ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। সবশেষে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশের মাধ্যমে চূড়ান্ত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইজভাণ্ডারী তরিকায় আত্মনিবেদন ও ইশকের অনন্য উপাখ্যান: খলিফায়ে গাউসুল আজম আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী

জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি: ৮ দফা যেকোনো সময় ১ দফায় রূপ নিতে পারে

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক

 

জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন, উত্তরবঙ্গের জীবনরেখা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ চালু এবং দেশব্যাপী চাদাবাজি-দখলবাজি বন্ধসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে বিশাল লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

 

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক বিশাল গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী এই দীর্ঘ সফরের সূচনা হয়।

 

উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজকে আমাদের দাবি আটটি। পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি ৯ বা ১০ দফাও হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, শাসকেরা যদি জনগণের ভাষা না বোঝেন, তবে জাতির প্রয়োজনে এই আট দফা যেকোনো মুহূর্তে এক দফায় রূপ নিতে পারে। তিনি বর্তমান প্রশাসনকে নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে চোখ রাঙিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে দমানো যাবে না।

 

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় কয়েক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চটি রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। জোটের পূর্বঘোষিত রুট অনুযায়ী, বহরটি টঙ্গী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যাত্রাপথে প্রতিটি মোড়ে এবং বাইপাসগুলোতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এবং টাঙ্গাইলের মহাসড়কে দুটি বড় ধরনের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা কার্যত জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

 

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যজোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জোটের নীতিনির্ধারকেরা জানান, চট্টগ্রামের কর্মসূচিতে জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো ৬টি মৌলিক দাবি ছিল। তবে এবারের রংপুর লংমার্চে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতীক ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন’ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে চলমান ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের’ দাবি দুটি নতুন করে যুক্ত হয়ে তা ৮ দফায় রূপ নিয়েছে।

 

চট্টগ্রামের লংমার্চের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রামের অভূতপূর্ব সফলতার পর অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে আমরা সেই মাথা গরমের কিছু আলামত ও লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আমরা বলব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। ক্ষমতার দম্ভ ছেড়ে জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।”

 

উদ্বোধনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার পর দেশের শাসনব্যবস্থায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এই আন্দোলন সফল করা ছাড়া বিকল্প নেই।

 

জোটের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, দেশের চার প্রান্তকে জাগ্রত করার ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। সবশেষে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশের মাধ্যমে চূড়ান্ত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হবে।