রাসেল চৌধুরী
আজ সুরের জোয়ারে ভাসলো বন্দরনগরী। সাপ্তাহিক ছুটির দিনের পড়ন্ত বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী টাইগারপাস এলাকার নেভি কনভেনশন হল রূপ নিয়েছিল এক টুকরো উৎসবে। উপলক্ষ—মেগা রক কনসার্ট ওভারলোড ফেস্টিভ্যাল। লাইভ ওয়েভ এন্টারটেইনমেন্টের নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কনসার্টকে ঘিরে চট্টগ্রামের গানপাগল তরুণদের মাঝে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। বিশেষ করে, দেশের অন্যতম শীর্ষ রক ব্যান্ড অর্থহীন দীর্ঘ পাঁচ বছর পর চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখায় শ্রোতাদের আবেগ আর উচ্ছ্বাস যেন সব বাঁধ ভেঙেছিল।
ডিজিটাল টিকিট পার্টনার ‘গেট সেট রক’-এর প্ল্যাটফর্মে কনসার্টের টিকিট ছাড়ার পর তা দ্রুততম সময়ে শেষ হয়ে যায়। আজ দুপুরের পর থেকেই নেভি কনভেনশন হলের প্রবেশদ্বারে লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায় হাজারো তরুণ-তরুণীকে।
এই সঙ্গীত উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের রাজনীতির তরুণ ও পরিচ্ছন্ন মুখের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রটোকল ছাড়াই একদম সাধারণ বেশে সাধারণ শ্রোতাদের সারিতে বসে তরুণদের এই উৎসব ভাগ করে নেন তিনি। তার উপস্থিতি কনসার্টের আমেজে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তরুণদের প্রাণের স্পন্দনকে ধরে রাখতে সুস্থ ও মানসম্মত সাংস্কৃতিক আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। মাদকমুক্ত ও ইতিবাচক সমাজ গঠনে সঙ্গীত অন্যতম বড় হাতিয়ার। চট্টগ্রামের এই সাংস্কৃতিক জাগরণকে আমরা সবসময় পাশে থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করব।
সন্ধ্যা নামতেই আলোর ঝলকানি আর গিটারের তারের ঝংকারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হলরুম। আজকের আসরের মূল আকর্ষণ ‘বেসবাবা’ খ্যাত সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন যখন তার দল ‘অর্থহীন’ নিয়ে মঞ্চে উঠলেন, তখন উপস্থিত হাজারো কণ্ঠের চিৎকারে যেন কেঁপে উঠেছিল কনভেনশন হল। দীর্ঘ বিরতির পর চট্টগ্রামের শ্রোতারা সামনাসামনি গাইলেন তাদের প্রিয় সব আইকনিক গান।
উৎসবে সুরের আগুন ঝরিয়েছে দেশের আরও বেশ কয়েকটি প্রথম সারির ব্যান্ডদল। তুমুল জনপ্রিয় অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড নেমেসিস এবং তরুণ প্রজন্মের হার্টথ্রব অ্যাভয়েড রাফা তাদের দুর্দান্ত পরিবেশনা দিয়ে দর্শকদের এক মুহূর্তের জন্যও বসার সুযোগ দেয়নি। এর আগে কনসার্টের শুরুর ভাগে এ কে রাহুল, লেভেল ফাইভ ও তীরন্দাজ এর মতো উদীয়মান ও শক্তিশালী ব্যান্ডগুলোর পরিবেশনা হলভর্তি শ্রোতাদের দারুণভাবে চাঙ্গা করে তোলে।
আয়োজকদের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং সুপরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনার কারণে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কনসার্ট শেষে বাড়ি ফেরার পথে বেশ কয়েকজন তরুণ শ্রোতা জানান, চট্টগ্রামে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে এত বড় মাপে এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে নিজেদের প্রিয় ব্যান্ডগুলোকে একসাথে দেখার এই অভিজ্ঞতা তাদের অনেকদিন মনে থাকবে। সুর, ছন্দ আর তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে মধ্যরাতে শেষ হয় চট্টগ্রামের চলতি বছরের অন্যতম সেরা এই রক মহোৎসব।


























