নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের চকবাজারের ব্যস্ততম প্যারেড কর্নার এলাকা। সাধারণ আর দশটা দিনের মতোই চলছিল যান চলাচল। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ করেই প্যারেড ময়দানের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থান নেয় র্যাব-৭-এর একটি বিশেষ দল। উদ্দেশ্য—একটি সুনির্দিষ্ট গোপন খবরের সত্যতা যাচাই করা। আন্দরকিল্লা থেকে মাদক বোঝাই একটি সিএনজি অটোরিকশা বহদ্দারহাটের দিকে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসে একটি অটোরিকশা। র্যাব সদস্যরা গাড়িটিকে থামার সংকেত দিতেই চালকের চোখে-মুখে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন চালক মো. সেলিম (৩৬)। কিন্তু ততক্ষণে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে র্যাবের চৌকস দল।
প্রাথমিক তল্লাশিতে গাড়ির ভেতর সন্দেহজনক কিছুই মিলছিল না। তবে চালকের অতিরিক্ত ঘাবড়ে যাওয়া দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে তল্লাশিকারীদের। নিখুঁত পরীক্ষার একপর্যায়ে নজর কাড়ে যাত্রী আসনের পেছনের একটি অংশ। সেখানে তৈরি করা হয়েছিল একটি ‘গুপ্ত পকেট’ বা বিশেষ চেম্বার। সেই কায়দা করে লুকিয়ে রাখা স্থান থেকে বেরিয়ে আসে স্কচটেপে মোড়ানো একটি লাল শপিং ব্যাগ। আর তা খুলতেই বেরিয়ে আসে ৩,৯২০ পিস লালচে ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তার সেলিম চাঁদপুরের কচুয়া থানার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই সিএনজি অটোরিকশা চালানোর আড়ালে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের বড় বড় চালান সরবরাহ করে আসছিলেন।
ফিল্মি স্টাইলের এই সফল অভিযানে ইয়াবার পাশাপাশি মাদক বহনের মূল বাহন অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।





















