নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আশেকে রাসূলদের ঢল নেমেছে। মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক তরিক্বত কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রবাস থেকে লাখো তরিক্বতপন্থী মানুষ দুপুরের পর থেকেই ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। আসরের আগেই পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আধ্যাত্মিক মহাসমুদ্রে রূপ নেয়।
কনফারেন্সের উদ্বোধক চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয়, মাদকের ভয়াল থাবা ও সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখতে দ্বীনি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। রাসুলুল্লাহ (দ.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও ভালোবাসা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের তরিক্বত কনফারেন্স অনন্য ভূমিকা পালন করে।” তিনি নগরীর শান্তিশৃঙ্খলা ও যুবসমাজের চরিত্র গঠনে সূফীবাদের চর্চাকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব হযরতুলহাজ্ব আল্লামা শাব্বির আহমদ মোমতাজীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান মেহমান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রূহানী বয়ান পেশ করেন কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মোর্শেদ, আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা অধ্যক্ষ শায়খ ছৈয়্যদ মোর্শেদে আজম (মা.জি.আ.)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোর্শেদে আজম বলেন, প্রিয় নবীজির (দ.) পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও সুন্নাত আঁকড়ে ধরার মাধ্যমেই কেবল মানবজীবনের চূড়ান্ত মুক্তি ও ইহলৌকিক-পারলৌকিক শান্তি সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সমকালীন বিশ্বে রূহানী রেনেসাঁর কালশ্রেষ্ঠ কিংবদন্তি হলেন খলিফায়ে রাসূল (দ.) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.)। যিনি মানুষের ভেতরের বাতেনী নূর জাগ্রত করতে এবং আত্মশুদ্ধির এক যুগান্তকারী আধ্যাত্মিক বিপ্লব সাধনে জীবন উৎসর্গ করে গেছে।
সম্মেলনে বক্তারা হযরত গাউছুল আজম (রা.) প্রবর্তিত তরিক্বতের বিশেষ আমলসমূহ, যেমন—দৈনিক ১১১১ বার দরূদ শরীফ পাঠ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় এবং নিয়মিত মোরাকাবার মাধ্যমে কীভাবে একজন মানুষ খাঁটি মুমিন হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, তা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা মহানগরের সভাপতি ও দারুন নাজাত ছিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা আ খ ম আবু বকর ছিদ্দিক, গুলশান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আল্লামা মুফতি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ ও চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে দেশ, মিল্লাত এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘটে।























