ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পতেঙ্গা টার্মিনালে সৌদি অপারেটরের বাজিমাত: ঘণ্টায় ৮২ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন বিশ্বমানের রেকর্ড

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 18

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতিতে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে সৌদি আরবভিত্তিক গ্লোবাল অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে টার্মিনালে নোঙর করা ‘এমভি ওয়ানেন’ নামের একটি নিজস্ব ক্রেনবিহীন জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮টি মুভ বা ৮২ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের অলটাইম নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এটিই কোনো টার্মিনালে একক ঘণ্টায় সবচেয়ে দ্রুতগতির কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ঘটনা। বর্তমানে মূল বন্দরের সাধারণ জেটিগুলোতে সনাতন পদ্ধতিতে ঘণ্টায় গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মুভ বা অনূর্ধ্ব ৪৮ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডল করা সম্ভব হয়। সেই তুলনায় পিসিটির এই গতি প্রায় দ্বিগুণ, যা দেশের সমুদ্র বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

 

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অভাবনীয় গতির পেছনে রয়েছে পিসিটিতে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া বিশ্বমানের ভারী যন্ত্রপাতি। চীন থেকে আমদানিকৃত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪টি অত্যাধুনিক শিপ-টু-শোর কি গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ১৪টি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এখন পূর্ণোদ্যমে কাজ করছে। এর আগে জাহাজের নিজস্ব ক্রেনের ওপর নির্ভর করতে হতো বলে সময় বেশি লাগত। গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল হওয়ার পর এই প্রথম কোনো গিয়ারলেস জাহাজে তা ব্যবহার করে এই অভাবনীয় গতি অর্জন করা সম্ভব হলো।

 

আরএসজিটি বাংলাদেশের সিইও অ্যারউইন হাজে এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, দক্ষ জনবল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই এই রেকর্ড সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বন্দরে জাহাজ অবস্থান করার সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

পতেঙ্গা টার্মিনালের এই বিশ্বমানের পারফরম্যান্সের কারণে বিদেশি শিপিং লাইনগুলোর জাহাজ জট বা ডেমারেজ চার্জের মাশুল থেকে বাঁচবে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হবে।

 

২০২৪ সালের জুনে ২২ বছরের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা টার্মিনালের দায়িত্ব নেয় সৌদি আরবের এই নামী প্রতিষ্ঠান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই টার্মিনালটির গ্রাফ কেবলই ওপরের দিকে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে এই টার্মিনালে যেখানে সারা বছরে ৭৮টি জাহাজ এবং ১ লাখ ৫৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই (আগস্ট পর্যন্ত) ৯৩টি জাহাজ থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৩৬ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়েছে। বার্ষিক সাড়ে ৪ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার এই টার্মিনালটি এখন চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা ফিরলে পুলিশ অকার্যকর’: অডিও কেলেঙ্কারিতে ক্যান্টনমেন্টের ওসি প্রত্যাহার, হাতকড়া পরানোর দাবি

পতেঙ্গা টার্মিনালে সৌদি অপারেটরের বাজিমাত: ঘণ্টায় ৮২ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন বিশ্বমানের রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতিতে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে সৌদি আরবভিত্তিক গ্লোবাল অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে টার্মিনালে নোঙর করা ‘এমভি ওয়ানেন’ নামের একটি নিজস্ব ক্রেনবিহীন জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮টি মুভ বা ৮২ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের অলটাইম নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এটিই কোনো টার্মিনালে একক ঘণ্টায় সবচেয়ে দ্রুতগতির কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ঘটনা। বর্তমানে মূল বন্দরের সাধারণ জেটিগুলোতে সনাতন পদ্ধতিতে ঘণ্টায় গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মুভ বা অনূর্ধ্ব ৪৮ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডল করা সম্ভব হয়। সেই তুলনায় পিসিটির এই গতি প্রায় দ্বিগুণ, যা দেশের সমুদ্র বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

 

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অভাবনীয় গতির পেছনে রয়েছে পিসিটিতে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া বিশ্বমানের ভারী যন্ত্রপাতি। চীন থেকে আমদানিকৃত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪টি অত্যাধুনিক শিপ-টু-শোর কি গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ১৪টি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এখন পূর্ণোদ্যমে কাজ করছে। এর আগে জাহাজের নিজস্ব ক্রেনের ওপর নির্ভর করতে হতো বলে সময় বেশি লাগত। গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল হওয়ার পর এই প্রথম কোনো গিয়ারলেস জাহাজে তা ব্যবহার করে এই অভাবনীয় গতি অর্জন করা সম্ভব হলো।

 

আরএসজিটি বাংলাদেশের সিইও অ্যারউইন হাজে এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, দক্ষ জনবল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই এই রেকর্ড সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বন্দরে জাহাজ অবস্থান করার সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

পতেঙ্গা টার্মিনালের এই বিশ্বমানের পারফরম্যান্সের কারণে বিদেশি শিপিং লাইনগুলোর জাহাজ জট বা ডেমারেজ চার্জের মাশুল থেকে বাঁচবে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হবে।

 

২০২৪ সালের জুনে ২২ বছরের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা টার্মিনালের দায়িত্ব নেয় সৌদি আরবের এই নামী প্রতিষ্ঠান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই টার্মিনালটির গ্রাফ কেবলই ওপরের দিকে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে এই টার্মিনালে যেখানে সারা বছরে ৭৮টি জাহাজ এবং ১ লাখ ৫৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই (আগস্ট পর্যন্ত) ৯৩টি জাহাজ থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৩৬ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়েছে। বার্ষিক সাড়ে ৪ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার এই টার্মিনালটি এখন চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে।